Image description

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন চেষ্টার পর প্রায় তিন দিন ধরে আটকা পড়েছে নারী-শিশুসহ ১২ জন।
গত শুক্রবার (১২ জুন) ভোরের দিকে উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে তাদের পুশইনের চেষ্টা রুখে দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। এরপর থেকে তারা শূন্যরেখায় ভারতের অংশে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। রাতে শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে সীমান্ত এলাকা।

এদিকে পুশইনের ঘটনায় গতকাল শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতপুরের বিলগাথুয়া সাব-পিলার এলাকায় ২০ মিনিটের একটি পতাকা বৈঠক হয়। এতে বিএসএফের পক্ষে ভারতের রাণীনগর ক্যাম্পের এসি সুনীল কুমার যাদব এবং বিজিবির পক্ষে ৪৭ কুষ্টিয়া বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা নেতৃত্ব দেন। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হওয়ায় শূন্যরেখায় আটকে যান ১২ জন। এ অবস্থায় বিজিবি প্রতিবাদ জানালে বিএসএফের পক্ষ থেকে সময় চেয়ে তদন্ত পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানাতে চেয়েছে।

সীমান্তের বাসিন্দারা বলছেন, মাথার ওপর কোনো আশ্রয় না থাকায় দিনে প্রচণ্ড রোদে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শূন্যরেখার লোকজন। সেই সঙ্গে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে আছে তারা। স্থানীয় বাসিন্দারা সাধ্য মতো শুকনা খাবার দিয়েছে তাদের। ভারতের উচিত মানবিক হয়ে তাদের দেশে ফেরত নেওয়া।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শূন্যরেখায় ভারতের সীমান্ত পিলার থেকে ৫০ গজের মধ্যে অবস্থান নেওয়া ১২ জনের মধ্যে ৪ পুরুষ, ৪ নারী এবং ৪ শিশু রয়েছে। তারা একটি পাটখেতের পাশে অবস্থান করছে। তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ রুখতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। এতে সহযোগিতা করছে সীমান্তবাসীরা।

বিজিবি ৪৭ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা জানান, শূন্যরেখায় অবস্থানরত ১২ জনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দুই দেশের রাষ্ট্র পর্যায়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। সমাধানে আলোচনা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, ‘বিএসএফ তাদের পুশইন করেছে। এটা অবৈধ অনুপ্রবেশ। আমরা কোনোভাবে এটা সমর্থন করি না। আমাদের একটাই কথা, অবৈধ অনুপ্রবেশ করেছে বিএসএফকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে। মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমরা বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।’