জমকালো উদ্বোধনের পরই মাঠের লড়াইতেও বাজিমাত করেছে মেক্সিকো। ঘরের মাঠে রাউল হিমিনেজের আবেগঘন প্রত্যাবর্তনের দিন দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে শুভসূচনা করেছে স্বাগতিকরা। গতকাল রাতে বর্ণিল উদ্বোধন হয়েছে কানাডার টরন্টোতেও। এরপর পালা মার্কিনিদের। এদিন লস অ্যানজেলেসে লড়বে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র এবং লাতিন দেশ প্যারাগুয়ে। ম্যাচ শুরুর ৯০ মিনিট আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকবেন মার্কিন গায়িকা ও গীতিকার কেটি পেরি।
লস অ্যানজেলেস স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে থাকবে বড় পরিসরের ভিজ্যুয়াল ও আকর্ষণীয় গল্পগাথা। সেইসঙ্গে মঞ্চ মাতাবেন- কেটি পেরি, ফিউচার, অ্যানিত্তা, লিসা, রেমা এবং টাইলার মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা। তবে মেক্সিকোতে শাকিরার নতুন লুক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে বলছে এটা শাকিরার ক্লোন। তার জায়গায় অন্য কেউ পারফর্ম করেছেন।
এদিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয় মেক্সিকোর রক ব্যান্ড ‘মানা’কে দিয়ে। স্থানীয় ভাষায় জনপ্রিয় ‘ওয়ে মি আমোর’ গান গেয়ে মেক্সিকোর জনতার হৃদয় জিতে নেয় মানা। গোটা স্টেডিয়াম গাইছিল তাদের সঙ্গে। এরপর ভেনেজুয়েলার গায়ক ড্যানি ওসান মঞ্চে ওঠেন। তিনিও স্পেনীয় গান এবং তার জমকালো পোশাকে মাতিয়ে দেন দর্শকদের। এরপরই যার জন্য অপেক্ষা ছিল, তিনি হাজির হন স্টেডিয়ামে। হলুদ জামা, সাদা মিনি স্কার্ট এবং চোখে রোদচশমা নিয়ে হাজির হন শাকিরা। সঙ্গে ছিলেন বার্না বয়। বিশ্বকাপের ‘থিম সং’ গেয়েছেন
স্টেডিয়াম ফেটে পড়েছে উল্লাসে। শাকিরা এবং বার্না বয়ের নাচ এবং গান মাতিয়ে দেয়। বিশ্বকাপের মঞ্চে শাকিরার শুরু ২০১০ সালে আফ্রিকা দিয়ে। কলম্বিয়ার জনপ্রিয় এই পপস্টার সেবার গেয়েছিলেন ‘ওয়াকা ওয়াকা’। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপেও ‘লা লা লা’ গান শাকিরা। এবার গাইলেন ‘দাই দাই’। একাংশের মতে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা প্রত্যাশা করা হয়েছিল তা পাওয়া যায়নি। এরচেয়ে বেশি কিছু করা যেতো বলে মনে হয়েছে তাদের।
তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শাকিরার ভিন্ন লুক। ভক্তদের একাংশের দাবি, মাঠ মাতানো সেই শাকিরা আসলে ‘আসল’ শাকিরা ছিলেনই না, বরং তার জায়গায় পারফর্ম করেছে কোনো ‘বডি ডাবল’ বা ক্লোন! এবারের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ (এগিয়ে চলো)। নাইজেরিয়ান তারকা বার্না বয়ের সঙ্গে এই গানেই গলা মিলিয়েছেন ৪৯ বছর বয়সী কলম্বিয়ান সেনসেশন। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ঝড় বইছে শাকিরার চেহারা নিয়ে। কারণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাকিরাকে দেখা যায় সম্পূর্ণ নতুন লুকে। পরনে ছিল হলুদ পোশাক, সাদা শর্টস আর প্ল্যাটফরম স্নিকার্স। তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল তার চুলে। চিরচেনা সোনালি (ব্লন্ড) চুল বদলে তিনি হাজির হন হালকা স্ট্রবেরি রেড কালারে। চোখে ছিল বিশাল বড় কালো সানগ্লাস, যা তার পুরো মুখাবয়বকে অনেকটাই আড়াল করে রেখেছিল।
আর এই লুকই জন্ম দিয়েছে যত রহস্যের। শাকিরার এই রূপবদল কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তার কোটি ভক্ত। সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্যের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। এক ক্ষুব্ধ ভক্ত লিখেছেন, ‘উনি কি সত্যিই শাকিরা? আমার তো কোনোভাবেই শাকিরা মনে হচ্ছে না। আমি কি ভুল দেখছি?’ স্প্যানিশ ভাষায় আরেকজন সরাসরি লিখেছেন, ‘আমাকে বলবেন না যে আমি একাই ভাবছি এটা শাকিরার বডি ডাবল!’ রসিকতা করে অন্য একজন লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওরা শাকিরার মতো দেখতে কাকে নিয়ে এলো?’ ভক্তদের দাবি, শাকিরার চোখের চাহনি ও শারীরিক ভাষার সঙ্গে এই পারফর্মারের কোনো মিল ছিল না
এটি নিশ্চিতভাবেই তার কোনো রূপধারী বা ইমপার্সনেটর। বিতর্ক একপাশে সরিয়ে রাখলে, এই গানটি শাকিরার জীবনের জন্য এক বড় বার্তা। সাবেক ফুটবলার জেরার্ড পিকের সঙ্গে তুমুল আলোচিত ও তিক্ত বিচ্ছেদের পর এটাই তার প্রথম বড় বৈশ্বিক পারফরম্যান্স। ‘দাই দাই’ গানের লিরিক্সেও রয়েছে সেই ক্ষত কাটিয়ে ওঠার গল্প। গানটির একটি লাইন হলো- ‘যা তোমাকে একবার ভেঙেছে, তা-ই তোমাকে শক্তিশালী করেছে।’ এই গান প্রসঙ্গে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে আবেগঘন কণ্ঠে শাকিরা বলেছিলেন, ‘জীবন আমাকে যতটা শক্তিশালী প্রমাণ করেছে, আমি সব সময় নিজেকে তার চেয়েও ভঙ্গুর বা দুর্বল ভেবেছিলাম। জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতার পেছনেই একটা শিক্ষা থাকে।
আমাদের সেই শিক্ষার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত, এমনকি যারা আপনাকে ক্ষতবিক্ষত করে চলে গেছে তাদের প্রতিও। কারণ তারা আমাদের আরও উন্নত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।’ গত দুইদিনে চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলেও বিশ্বকাপের আসল লড়াই শুরু হবে আজ ভোররাতে। যেখানে মরক্কোর মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বকাপ। আরেক পরাশক্তি জার্মানি মাঠে নামবে আগামীকাল। এবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপটা একটু লম্বা। তাই তো বিশ্বকাপ শুরুর পঞ্চম দিনের মাথায় প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা। তবে তার আগে আগামীকাল জার্মানি পরের দিন স্পেন ও আগামী ১৬ই জুন বর্তমান রানার্সআপ ফ্রান্স খেলতে নামবে। এর মধেই বিশ্বকাপের মাঠের উন্মাদনা পুরোপুরি শুরু হবে বলে বিশ্বাস সকলের।