Image description

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপ ও বিশ্বের বৃহত্তম দেশ রাশিয়ার বৈরিতা ততই তীব্র হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এবার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তির লড়াই। ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে, ভবিষ্যতের সংঘাত শুধু স্থল, আকাশ বা সমুদ্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না, মহাকাশও হয়ে উঠতে পারে নতুন রণক্ষেত্র।

 

গবেষকদের দাবি, স্যাটেলাইট ব্যবস্থার মাধ্যমে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে জিপিএস সিগন্যালে হস্তক্ষেপ ও জ্যামিং করছে রাশিয়া। ফলে বিমান ও নৌ চলাচলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন কর্তৃক প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটাই উঠে এসেছে।

 

গবেষকদের দাবি, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে রাশিয়া ইউরোপের বিভিন্ন এলাকায় জিপিএস সিগন্যালে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। এর ফলে বিমান, জাহাজ এবং অন্যান্য নেভিগেশন ব্যবস্থার অবস্থান নির্ণয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

জিপিএস শুধু মোবাইলে পথ দেখানোর কাজেই ব্যবহৃত হয় না। বিমান চলাচল, সমুদ্রপথে নৌযান পরিচালনা, জরুরি সেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও এর ওপর নির্ভরশীল। তাই জিপিএস সিগন্যালে সামান্য বিঘ্নও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

 

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে ইউরোপে এ ধরনের জিপিএস জ্যামিং বা সংকেত বিকৃত করার ঘটনা বেড়েছে। এতে রিসিভারগুলো ভুল অবস্থান দেখাতে পারে বা সঠিক সংকেত পেতে ব্যর্থ হতে পারে।

 

গবেষকদের ভাষ্য, এটি আধুনিক ‘ইলেকট্রনিক যুদ্ধের’ অংশ, যেখানে সরাসরি অস্ত্র ব্যবহার না করে প্রতিপক্ষের ডিজিটাল ও মহাকাশভিত্তিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

 

তারা সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধ শুধু স্থল, আকাশ ও সমুদ্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মহাকাশ এবং ডিজিটাল অবকাঠামোও বড় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে। তাই স্যাটেলাইটভিত্তিক ব্যবস্থার নিরাপত্তা এখন বিশ্বের দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হয়ে উঠছে।

 

সূত্র: এনডিটিভি