Image description

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং সম্প্রতি পাঁচ দিনের সফরে ভারতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাত নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

চলতি বছরের বিতর্কিত নির্বাচনে জয়লাভের পর এটিই তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। কারণ, মিয়ানমারের জান্তাসমর্থিত সরকারের সঙ্গে আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলো আগামীতে কেমন সম্পর্ক রাখবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে এই সফরের ওপর।

ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ফলে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রভাব সরাসরি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পড়ে। ২০২১ সালে মিন অং হ্লাইং ক্ষমতা দখলের পর দেশটিতে যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, এর কারণে হাজার হাজার শরণার্থী ভারতের মিজোরাম ও মণিপুরে আশ্রয় নেন।

গত জানুয়ারিতে মিয়ানমারে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং তাতে জয়ী হয়ে গত এপ্রিলে দেশটির প্রেসিডেন্ট হন মিন অং হ্লাইং। পশ্চিমা বিশ্ব এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বললেও মিয়ানমারের দাবি, এটি তাদের গণতন্ত্রে ফেরার পদক্ষেপ।

গত সোমবারের বৈঠকে মোদি মিয়ানমারের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং বর্তমানে গৃহবন্দি নেত্রী অং সান সু চির প্রসঙ্গ তোলেন। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি জানান, সম্পর্ক ছিন্ন করার চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোতেই ভারতের আগ্রহ বেশি। বৈঠকে দুই নেতাই প্রতিশ্রুতি দেন, কেউ কারও ভূখণ্ডকে অন্য দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কাজে ব্যবহার করতে দেবেন না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর মিয়ানমার সরকারের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক জয়। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত রাজীব ভাটিয়া বলেন, মিয়ানমারের জান্তা সরকার এই সফরকে ‘বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ’ ভারতের কাছ থেকে এক ধরনের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছে।

বর্তমানে মিয়ানমার সেনাবাহিনী দেশের ভেতরে বিদ্রোহীদের কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এনে পশ্চিম সীমান্তের দিকে নজর দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সশস্ত্র আন্দোলন দমনেও তারা ভারতের সহযোগিতা চাইতে পারে।

সাংবাদিক অভিষেক দের মতে, ভারতের কাছে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চেয়ে নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, তারা নিজেদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চায়। দ্বিতীয়ত, তারা চায় ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতি কার্যকর করতে। যার লক্ষ্য, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গেও বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করা। এবং তৃতীয়ত, মিয়ানমারে তাদের ‘চিরশত্রু’ ভারতের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করতে। মিয়ানমারকে ব্যবহার করে চীন যাতে বঙ্গোপসাগরে আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে, সেজন্য মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা ভারতের জন্যও জরুরি।