ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রথমেই সেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে হামলা চালায় ইসরায়েল। আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। এবার দেশটির আরও গভীরে সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
রোববার (৩১ মে) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ইসরায়েলের প্রভাব আরও বিস্তৃত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে লেবাননে। লেবানন সরকারের তথ্যমতে, গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, একই সময়ে তাদের ২৪ জন সেনা ও চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে তারা দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক বোফোর্ট দুর্গ ও এর আশপাশের একটি কৌশলগত শৈলশিরা দখল করেছে। তাদের দাবি, ওই এলাকা থেকে উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালানো হতো এবং সেখানে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননে গড়ে তোলা নিরাপত্তা বলয়ের অংশ হিসেবে বোফোর্ট দুর্গের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা হবে। তিনি বলেন, ‘অভিযান এখনো শেষ হয়নি। হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসে আমরা বদ্ধপরিকর।’
এদিকে ইসরায়েলি বাহিনী লিতানি নদীর উত্তরে জাহরানি নদীর দিকেও অগ্রসর হচ্ছে বলে জানা গেছে। রোববার জাহরানির দক্ষিণে বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে দেইর আল-জাহরানি গ্রামে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, রোববার দক্ষিণ লেবাননে ৪০টির বেশি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
অন্যদিকে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পরও হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। হিজবুল্লাহর ড্রোন ও রকেট হামলায় উত্তর ইসরায়েলের বহু বাসিন্দাও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সম্প্রতি উত্তর ইসরায়েলে বড় ধরনের গোলাবর্ষণের পর কয়েকটি এলাকায় স্কুল বন্ধ এবং নিরাপত্তা বিধিনিষেধ জারি করা হয়।
লেবাননে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স সোমবার (১ জুন) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডেকেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটনে বৈঠক করেন। ওই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার পথ খোঁজা। গত ১৫ মে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়াতে সম্মত হয়েছিল।