মালয়েশিয়ায় শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে মালয়েশিয়ান কমিউনিকেশনস অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া কমিশন। সংস্থাটি অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট ২০২৫-এর আওতায় ‘চাইল্ড প্রোটেকশন কোড’ এবং ‘রিস্ক রিডাকশন কোড’ চালু করেছে, যা আগামী ১ জুন থেকে কার্যকর হবে।
এক বিবৃতিতে এমসিএমসি জানায়, এই দুটি কোডের লক্ষ্য হলো শিশু ও পরিবারের জন্য আরও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা, বিশেষ করে ১৬ বছরের কম বয়সি ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দেওয়া।
সংস্থাটি বলেছে, নতুন এই উদ্যোগ অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করবে এবং জটিল ডিজিটাল ঝুঁকি মোকাবিলায় অভিভাবকদের আস্থা বাড়াবে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে আরও বেশি দায়িত্ব আরোপ করা হবে।
চাইল্ড প্রোটেকশন কোডের আওতায় শিশুদের বয়স উপযোগী ও নিরাপদ অনলাইন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে ‘সেফটি বাই ডিজাইন’ নীতি অনুসরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ১৬ বছরের কম বয়সিদের অ্যাকাউন্ট খোলা ও মালিকানায় সীমাবদ্ধতা আরোপ।
এ ছাড়া শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কনটেন্ট থেকে দূরে রাখতে বয়সভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং কিছু নির্দিষ্ট ফিচার ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা থাকবে। এর ফলে শোষণমূলক ও ক্ষতিকর কনটেন্টে শিশুদের প্রবেশ কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে রিস্ক রিডাকশন কোডের আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে আরও সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে ঝুঁকি মূল্যায়ন, শক্তিশালী কনটেন্ট ব্যবস্থাপনা, কার্যকর অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা, বিজ্ঞাপনদাতাদের যাচাই এবং পরিবর্তিত বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্টে লেবেল সংযুক্ত করা।
এমসিএমসি জানিয়েছে, নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য প্ল্যাটফর্মগুলোকে যুক্তিসংগত সময় দেওয়া হবে। ব্যবহারকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা বা বিদ্যমান অ্যাকাউন্ট চালু রাখতে বয়স যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
বয়স যাচাইয়ের জন্য সরকারি নথি যেমন মাইকাড বা পাসপোর্ট ব্যবহার করা হবে। বর্তমানে যেসব শিশু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে, তাদের ক্ষেত্রেও একই যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, যাতে শুধুমাত্র ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীরা অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করতে পারে।
মালয়েশিয়ায় আট মিলিয়ন বা তার বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে এমন লাইসেন্সধারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো এই নতুন বিধিনিষেধের আওতায় পড়বে। এর মধ্যে রয়েছে ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টিকটক এবং ইউটিউব।