Image description

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের জবাবের বিপরীতে নতুন পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবের জবাব না দিলেও যুক্তরাষ্ট্রকে সুনির্দিষ্ট কোনো ছাড় দিতে রাজি হয়নি ইরান। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে খুব তাড়াতাড়ি রাজি না হয় তাহলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ফের ইরানে হামলা চালাতে পারে বলে মনে করছেন দোহা ইনস্টিটিউট অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি। আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মনে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করবে। এর কারণ হলো বিভিন্ন ধরনের লোক ট্রাম্পকে পরামর্শ দিচ্ছেন। এর মধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পের নিজের প্রশাসনেরই অত্যন্ত যুদ্ধবাজ ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

এলমাসরি বলেন, ট্রাম্প ইরানিদের কাছ থেকে যে ধরনের আত্মসমর্পণ চেয়েছিলেন এবং আশা করেছিলেন, তা পাননি। ট্রাম্প আলোচনা ভিন্নভাবে এগোবে বলেও আশা করেছিলেন এবং চীনে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক শীর্ষ সম্মেলনে তার উচ্চ প্রত্যাশা ছিল। ইরানকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সবশেষ পাঁচ দফা প্রস্তাবে বলা হয়েছে- ইরান কেবল একটি পারমাণবিক কেন্দ্র সচল রাখতে পারবে। তাদের উচ্চমাত্রাসমৃদ্ধ সব ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে স্থানান্তর করতে হবে। প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে জব্দ ইরানের সম্পদের অন্তত ২৫ শতাংশ ছেড়ে দিতেও রাজি হয়নি। তারা যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতেও অস্বীকার করেছে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, আলোচনা শুরু হলেই কেবল সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবের জবাব না দিলেও যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড় দিতে রাজি হয়নি। দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো দৃশ্যমান ছাড় না দিয়েই এমন সব সুবিধা আদায় করতে চায়, যা তারা যুদ্ধের সময় অর্জন করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের এসব দাবি আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি করেছে।

ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, নইলে তাদের কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তাদের খুব দ্রুত এগোতে হবে। না হলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময়টা অত্যন্ত জরুরি। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। গতকাল এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এখন থেকে এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে যে কোনো ধরনের নৌযান চলাচলের আগে ইরানের সামরিক বাহিনী ও আইআরজিসির সঙ্গে পূর্ব সমন্বয় করতে হবে। শত্রুভাবাপন্ন বা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের কোনো সামরিক জাহাজকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর বাণিজ্যিক ও সাধারণ নৌযান আগের মতোই এ পথ ব্যবহার করতে পারবে।

হরমুজের দক্ষিণাঞ্চলীয় রেড বিচ এলাকা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে সেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। আইআরজিসির নৌবাহিনী জানিয়েছে, পুরো প্রণালিটি এখন তাদের কঠোর সামরিক নজরদারির আওতায় রয়েছে। গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল কিছুটা বেড়েছিল। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, বিশেষ করে চীনা কোম্পানির প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে। তবে আইআরজিসির নতুন কঠোর অবস্থানের পর গত ২৪ ঘণ্টায় অন্য কোনো জাহাজ চলাচলের খবর পাওয়া যায়নি।