ভারতের কর্ণাটকের তুমাকুরু জেলায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার নিজের বাবার বিরুদ্ধে। নিখোঁজ হওয়ার এক মাস পর পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর এ তথ্য।
রোববার (১৬ মে) এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিহত কিশোরীর নাম মেঘনা। তিনি শিরা তালুকের নিম্বেমারাদাহল্লি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, মেয়ের বিয়ে নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবা থিম্মারায়াপ্পা তাকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল মেঘনা নিখোঁজ হন। সেদিন সন্ধ্যায় দিনমজুরির কাজ শেষে বাড়ি ফিরে মেয়েকে না পেয়ে তার মা নির্মলা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে তিনি সন্দেহ করে থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্তকারীরা জানান, মেঘনার বিয়ে নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মেঘনার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে আত্মীয়ের এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তার মা। এমনকি সম্ভাব্য পাত্রপক্ষ বিয়ের জন্য শাড়ি ও মঙ্গলসূত্রও কিনে রেখেছিল বলে জানা গেছে।
তবে স্ত্রী পক্ষের আত্মীয়ের সঙ্গে মেয়ের বিয়েতে আপত্তি ছিল থিম্মারায়াপ্পার। এ নিয়ে গত চার থেকে পাঁচ মাস ধরে পরিবারে নিয়মিত ঝগড়া-বিবাদ চলছিল।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে থিম্মারায়াপ্পা হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনি প্রথমে মেয়েকে একটি কূপে ফেলে দেন এবং পরে পাথর ছুড়ে হত্যা নিশ্চিত করেন। এরপর মরদেহ কূপ থেকে তুলে নির্জন স্থানে মাটিচাপা দেন।
আরও জানা গেছে, হত্যার পর সন্দেহ এড়াতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে মেয়ের নিখোঁজের অভিযোগ দায়েরেও সহযোগিতা করেছিলেন তিনি।
ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।