Image description

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর এখন গেরিলা যুদ্ধের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ফাইবার-অপটিক এফপিভি (ফার্স্ট-পার্সন-ভিউ) ড্রোন। তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি এই ড্রোনগুলো ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

 

সম্প্রতি প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে, ছোট আকারের বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ইসরাইলি ট্যাংক, বুলডোজার ও সৈন্যদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। একটি ঘটনায় ট্যাংকের পাশে থাকা তিন ইসরাইলি সৈন্য ড্রোনটির শব্দ শুনলেও সেটি শনাক্ত করার আগেই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একজন সৈন্য নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই ড্রোনগুলোর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এগুলোকে সহজে জ্যাম করা যায় না। সাধারণ রেডিও-নিয়ন্ত্রিত ড্রোনের বিপরীতে এগুলো কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ ফাইবার-অপটিক কেবলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থার মাধ্যমে সংকেত বিচ্ছিন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

হিজবুল্লাহর দাবি, তারা এসব ড্রোন ব্যবহার করে ইসরাইলি মেরকাভা ট্যাংকের ট্রফি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছে। ড্রোনের এফপিভি প্রযুক্তি চালককে সরাসরি ভিডিও ফিডের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সহায়তা করে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে যে, এ ধরনের ড্রোন এখন বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছে। একজন সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই হুমকি মোকাবিলায় নতুন শনাক্তকরণ ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ চলছে।

হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সিরিয়ার মাধ্যমে ইরান থেকে অস্ত্র সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পর সংগঠনটি স্থানীয়ভাবে কম খরচে ড্রোন তৈরির দিকে ঝুঁকেছে। থ্রিডি প্রিন্টিং ও বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে প্রতিটি ড্রোন তৈরি করতে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ডলার খরচ হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ড্রোনের দীর্ঘ পাল্লা ইসরাইলকে দক্ষিণ লেবাননে তাদের নিরাপত্তা বাফার জোনের কৌশল পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করছে। কারণ, ছোট ও দ্রুতগতির এই ড্রোনগুলো প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য কঠিন লক্ষ্যবস্তু।

ইসরাইলের বহুল আলোচিত আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও এখন পর্যন্ত এসব ক্ষুদ্র ড্রোন ঠেকাতে কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। সাম্প্রতিক ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরাইলি সৈন্যরা নিজেদের অস্ত্র দিয়েই ড্রোন ভূপাতিত করার চেষ্টা করছেন।

ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইউরেশিয়া প্রোগ্রামের সিনিয়র ফেলো রব লি বলেন, ফাইবার-অপটিক ড্রোনকে ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মাধ্যমে থামানো প্রায় অসম্ভব এবং এগুলো শনাক্ত করাও কঠিন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত কৌশল থেকে শিক্ষা নিয়ে হিজবুল্লাহ এখন আরও দক্ষভাবে এফপিভি ড্রোন ব্যবহার করছে। সাম্প্রতিক ফুটেজে দেখা গেছে, একটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে এবং আরেকটি ড্রোন দূর থেকে সেই হামলার ভিডিও ধারণ করছে।

অবসরপ্রাপ্ত লেবাননি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেহাদেহ বলেন, গেরিলা যুদ্ধের উদ্দেশ্য দ্রুত বিজয় নয়; বরং ধীরে ধীরে প্রতিপক্ষকে ক্ষয় করা। তাঁর মতে, সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে এফপিভি ড্রোন যুদ্ধক্ষেত্রে শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।

সূত্র: গার্ডিয়ান