Image description

স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর আরও বেড়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের চাপ। এর মধ্যেই মঙ্গলবার (১২ মে) পদত্যাগ করেছেন তার সরকারের চারজন কনিষ্ঠ মন্ত্রী।

সর্বশেষ পদত্যাগ করেছেন স্বাস্থ্য উদ্ভাবন ও নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী জুবির আহমেদ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত পদত্যাগপত্রে স্টারমারকে নতুন নেতৃত্বের জন্য পথ ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

‘সেই জরুরি প্রয়োজন এবং জাতীয় দায়িত্বের স্বার্থে এখন আপনাকে অনুরোধ করছি, সরে দাঁড়ান। এমন নতুন নেতৃত্বের কাছে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময়সূচি ঘোষণা করুন, যে অর্জন করতে পারবে দেশের জনগণের আস্থা।’

এর আগে একই দিনে পদত্যাগ করেন বিচার মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট (মন্ত্রী) অ্যালেক্স ডেভিস-জোনস, আবাসন ও স্থানীয় সরকারবিষয়ক মন্ত্রী মিয়াটা ফানবুলে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নারী ও শিশু সুরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী জেস ফিলিপস।

এই পদত্যাগের ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন প্রায় ৯২ জন লেবার এমপি স্টারমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে অথবা ক্ষমতা ছাড়ার সময়সূচি ঘোষণা করতে জানিয়েছেন আহ্বান।

গত সপ্তাহের নির্বাচনে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফলের পর মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দেন স্টারমার। নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর পার্লামেন্টারি লেবার পার্টির ভেতরে দেখা দিয়েছে প্রকাশ্য বিদ্রোহ। একই সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের ভেতরেও স্পষ্ট হয়েছে  গভীর বিভক্তি।

এর আগে সোমবার রাতেই পরিস্থিতি হয় আরও ঘনীভূত। ওই সন্ধ্যায় পদত্যাগ করা ছয়জন মন্ত্রিসভার সহযোগীর স্থলে নতুন কয়েকজনকে নিয়োগ দেয় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর৷ প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ বাড়তে থাকায় সরকারের নিচের সারি স্থিতিশীল দেখানোর চেষ্টা হিসেবেই এ পদক্ষেপ বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

তবে ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেও মঙ্গলবার মন্ত্রীদের স্টারমার বলেন, ‘সরকার চালিয়ে যাবেন’ তিনি।

ডাউনিং স্ট্রিটের বিবৃতি অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্টারমার বলেন, ‘গতকাল যেমন বলেছি, নির্বাচনের এই ফলের দায় নিচ্ছি আমি এবং যে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আমরা, তা বাস্তবায়নের দায়িত্বও নিচ্ছি আমি।’

গত সপ্তাহের নির্বাচনে একের পর এক বড় ধাক্কা খেয়েছে রাজনৈতিক দলটি। ওয়েলসের সেনেড নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরাজয়ের মুখে পড়েছে তারা। আর স্কটল্যান্ডে টানা পঞ্চমবারের মতো পার্লামেন্টে ক্ষমতা ধরে রেখেছে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি।

স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং ইংল্যান্ডের ১৩৬টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন ছিল ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবারের বিপুল জয়ের পর জনমত যাচাইয়ের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

অন্যদিকে উত্থান অব্যাহত রয়েছে ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের। ১ হাজার ৪৫০টির বেশি কাউন্সিল আসন জিতেছে এবং গত বছরের স্থানীয় নির্বাচনের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে দলটি।