Image description

রাত গভীর হলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বাড়তে থাকে শর্ট ভিডিওর ভিড়। কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও, নাটকীয় থাম্বনেইল আর চমক লাগানো শিরোনামে স্ক্রল থামিয়ে দিচ্ছেন হাজারো তরুণ। কেউ রাস্তায় বিপজ্জনক স্টান্ট করছেন, কেউ লাইভে ব্যক্তিগত সম্পর্কের নাটক দেখাচ্ছেন, আবার কেউ শুধুই ‘ট্রেন্ড’ ধরতে তৈরি করছেন অদ্ভুত সব কনটেন্ট।

কিছু বছর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছিল যোগাযোগের জায়গা। এখন সেটি অনেকের কাছে পরিচিতি, আয় আর রাতারাতি তারকা হওয়ার শর্টকাট পথ। আর সেই পথেই তৈরি হয়েছে নতুন এক প্রতিযোগিতা—‘ভাইরাল’ হওয়ার প্রতিযোগিতা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যালগরিদম-নির্ভর এই দুনিয়ায় মনোযোগই সবচেয়ে বড় পুঁজি। ফলে যত বেশি চমক, তত বেশি ভিউ। আর সেই কারণেই অনেক কনটেন্ট নির্মাতা সচেতনভাবেই বিতর্ক, ঝুঁকি কিংবা ব্যক্তিগত বিষয়কে সামনে আনছেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দেখা গেছে, কিশোর-তরুণদের একটি অংশ বিপজ্জনক স্টান্ট, অশালীন ভাষা বা ভুয়া তথ্যভিত্তিক ভিডিও বানিয়ে দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ ব্যস্ত সড়কে ভিডিও করছেন, কেউ আবার সাধারণ মানুষের সঙ্গে ‘প্র্যাঙ্ক’-এর নামে তৈরি করছেন বিশৃঙ্খলা।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সামাজিক স্বীকৃতির তীব্র আকাঙ্ক্ষা তরুণদের এই প্রবণতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। লাইক, কমেন্ট আর ফলোয়ার সংখ্যাই অনেকের কাছে এখন আত্মবিশ্বাসের মাপকাঠি হয়ে উঠছে। ফলে বাস্তব জীবনের চেয়ে ভার্চুয়াল পরিচিতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন কেউ কেউ।

অপরদিকে, কনটেন্টের এই প্রতিযোগিতা তৈরি করছে নতুন ধরনের চাপও। নিয়মিত ভিউ না পেলে হতাশা, ট্রোলিংয়ের শিকার হওয়া কিংবা অনলাইনে অপমান—এসবের প্রভাব পড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যে। বিশেষ করে কিশোরদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে কেবল নেতিবাচক দিকই নয়, ইতিবাচক কনটেন্ট নির্মাতাদের সংখ্যাও বাড়ছে। অনেক তরুণ শিক্ষা, প্রযুক্তি, ভ্রমণ, বই কিংবা সামাজিক সচেতনতা নিয়েও কাজ করছেন। কিন্তু সমস্যাটি হচ্ছে—অ্যালগরিদম প্রায়ই চমকপ্রদ ও বিতর্কিত কনটেন্টকে বেশি সামনে নিয়ে আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সচেতনতা, পারিবারিক নজরদারি এবং কনটেন্ট নীতিমালা আরও শক্তিশালী না হলে ‘ভাইরাল সংস্কৃতি’ ভবিষ্যতে বড় সামাজিক সমস্যায় রূপ নিতে পারে।

কারণ, কয়েক সেকেন্ডের ভাইরাল হওয়ার নেশা কখনও কখনও বদলে দিতে পারে পুরো একটি প্রজন্মের চিন্তা, আচরণ—এমনকি বাস্তবতাও।