Image description

শিক্ষায় ফের আসছে নতুন কারিকুলাম। আগামী ২০২৮ সাল থেকে স্কুলগুলোয় এ কারিকুলাম চালু করবে সরকার। ২০২৩ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত মাত্র পাঁচ-ছয় বছরে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে তিনটি শিক্ষা কারিকুলাম।

প্রতিটি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের সরকারের প্রণয়ন করা শিক্ষা কারিকুলাম বাতিল করে নতুন পদ্ধতির কারিকুলামে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করছে। আর এসব কারিকুলামে গিনিপিগের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘ সময়ে টেকসই শিক্ষা কারিকুলাম না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু-কিশোর থেকে তরুণ-তরুণীরা।

যদিও জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন কারিকুলামে শিক্ষাকে সুখপাঠ্য করে পরীক্ষা কমিয়ে আনা হবে। কমিয়ে আনা হবে পাঠ্যবইও। ছাত্রছাত্রীদের মন থেকে পরীক্ষাভীতি দূর করতে নানান পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তথ্যমতে ২০১৩ সালে শিক্ষায় নতুন জাতীয় শিক্ষা কারিকুলাম এনেছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার। এরপর ২০২৩ সালে ফের নতুন জাতীয় শিক্ষা কারিকুলাম বাস্তবায়ন শুরু করে দলটি। এই কারিকুলাম নিয়ে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয় শিক্ষা সেক্টরে। সব সমালোচনা উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ সরকার এ কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত। এরপর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর অন্তর্বর্তী সরকার এক যুগ পেছনে ফিরে গিয়ে ২০১২ সালের কারিকুলাম অনুযায়ী ২০২৫ সালে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বই বিতরণ করে। চলতি বছরও শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে এক যুগের বেশি সময়ের আগে প্রণয়ন করা কারিকুলামে। ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলামের বই পাবে ছাত্রছাত্রীরা। অর্থাৎ ২০২৩ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত মাত্র পাঁচ-ছয় বছরেই শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে তিনটি কারিকুলাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের এক সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বিভিন্ন উন্নত দেশ এমনকি পাশের ভারতেও সরকার পরিবর্তন হলে সরকারের  শিক্ষানীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসে না। কিন্তু আমাদের দেশের এক সরকারের প্রণয়ন করা শিক্ষা কারিকুলাম অন্য সরকারের আমলে চলে না। এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একেক পদ্ধতি আত্মস্থ করতে বেগ পেতে হয় তাদের।’ এনসিটিবি সূত্র জানান, ২০২৭ সালেও শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ করা হবে ২০১২ সালের কারিকুলাম অনুযায়ী। তবে আগামী শিক্ষাবর্ষে ছাত্রছাত্রীরা পরিমার্জিত পাঠ্যবই হাতে পাবে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন দুটি বই পাবে শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে একটি লার্নিং উইথ জয় বা আনন্দময় শিক্ষা এবং অন্যটি খেলাধুলা সম্পর্কিত। এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণির ইতিহাস বই ব্যাপকভাবে পরিমার্জন করা হচ্ছে। এসব বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বীরত্বগাথা, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসসহ নানান বিষয় সংযোজন করা হবে।

এ ছাড়া আইসিটি বইয়ে এআই, রোবোটিকস এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো যুগোপযোগী বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর বাইরেও সব বইয়ে তথ্য, শব্দ ও ভাষাগত নানান পরিমার্জন আনা হচ্ছে। পাঠ্যবইয়ের প্রচ্ছদ, ছবি, মানচিত্র ও অলংকরণেও নান্দনিকতা আনা হবে। এসব পরিবর্তন এনে জুনের মধ্যেই পরিমার্জনের কাজ শেষ করতে চায় এনসিটিবি। সম্প্রতি মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির বই পরিমার্জনের কর্মশালা শেষ করেছে এনসিটিবি। বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ের বই পরিমার্জন কর্মশালা চলমান রয়েছে। কারিকুলাম পরিবর্তনের উদ্যোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য (পাঠ্যক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক বলেন, নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন করা সরকারের সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হবে নতুন কারিকুলাম। নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে শিখবে। তাদের পরীক্ষাভীতি থাকবে না। শ্রেণিকক্ষে শেখাটাই কারিকুলামে গুরুত্ব পাবে।’