ইরান যুদ্ধ ও ফুরিয়ে আসা অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে মার্কিন পার্লামেন্টে (কংগ্রেস) রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ। গত মঙ্গলবার মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের পৃথক দুটি শুনানিতে তাকে এই তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়।
মূল সংঘাতের বিষয়: শুনানিতে আইনপ্রণেতারা মূলত ইরান যুদ্ধের শেষ কোথায়, এই যুদ্ধের বিশাল ব্যয় এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোলবারুদ ও অস্ত্রভাণ্ডার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের ব্যয় এরই মধ্যে ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার বড় একটি অংশই যাচ্ছে ব্যবহৃত অস্ত্র প্রতিস্থাপনে
দ্বিপক্ষীয় সমালোচনা: সাধারণত রিপাবলিকানরা ট্রাম্প প্রশাসনের কট্টর সমর্থক হলেও, এদিন খোদ নিজ দলের নেতাদের তোপের মুখে পড়েন হেগসেথ। বর্ষীয়ান রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককনেল নেটো (NATO) মিত্রদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈরী সম্পর্কের সমালোচনা করে বলেন, "নেটো বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক জোট।" মিত্রদের অবজ্ঞা করে যুক্তরাষ্ট্র একা হয়ে পড়ছে কি না—এমন প্রশ্নও তোলেন রিপাবলিকান নেতারা।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রোজা ডেলোরো প্রশাসনের অস্পষ্ট কৌশলের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, "এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য কী এবং এর শেষ কোথায়, সে সম্পর্কে প্রশাসনের কোনো স্বচ্ছ ধারণা নেই।"
অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে বিতর্ক: সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (CSIS) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেকই শেষ হয়ে গেছে। চীনের সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতিতে এটি বড় বাধা হতে পারে। যদিও হেগসেথ দাবি করেছেন, "অস্ত্র শেষ হয়ে যাওয়ার দাবিটি সত্য নয়," তবে তিনি স্বীকার করেন যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর জন্য শিল্প খাতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ চাপে রয়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে 'আবর্জনা' বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং যুদ্ধের খরচ মেটাতে ও মুদ্রাস্ফীতি সামলাতে কেন্দ্রীয় গ্যাস ট্যাক্স স্থগিতের প্রস্তাব করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় ইরান যুদ্ধের এই অচলাবস্থা এবং অর্থনৈতিক প্রভাব ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।