Image description

পৌরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পশ্চিমবঙ্গের সাবেক দমকলমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুজিত বসুকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

সোমবার (১১ মে) সকালে কলকাতার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দপ্তরে হাজির হওয়ার পর টানা সাড়ে দশ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত সোয়া নয়টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেরায় বয়ানে অসঙ্গতি ও অসহযোগিতার অভিযোগেই গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেয় ইডি।

ইডি সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে দশটার দিকে ছেলে ও আইনজীবীকে নিয়ে ইডির দপ্তরে হাজির হন সুজিত বসু। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোনো সহযোগিতা করেননি এবং বিভিন্ন প্রশ্নের অপ্রাসঙ্গিক উত্তর দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তদন্তকারীরা। এরপরই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সোমবার রাতে শারীরিক পরীক্ষার পর মঙ্গলবার (১২ মে) তাকে ইডির বিশেষ আদালতে তোলা হতে পারে বলে জানা গেছে।

কলকাতার লেকটাউন এলাকার প্রভাবশালী এই তৃণমূল নেতা দক্ষিণ দমদম পৌরসভার সাবেক উপ-পৌরপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অর্থের বিনিময়ে কর্মী নিয়োগে বড় ধরনের দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই মামলার তদন্তে আগেই তার বাসভবন, কার্যালয় ও রেস্তোরাঁয় তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি।

এর আগে চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন থেকে শুরু করে ভোটপর্ব চলাকালীন একাধিকবার হাজিরার নোটিশ পেয়েছিলেন তিনি। ভোটপর্ব শেষ হলে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে গত ১ মে প্রথম দফায় ইডির মুখোমুখি হন সুজিত বসু। তখন দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হলেও সোমবার দ্বিতীয় দফায় হাজিরা দিতে গিয়ে আর ফিরতে পারলেন না।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে বিধাননগর আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন সুজিত বসু। নির্বাচনে হারের পরপরই এই গ্রেপ্তারের ঘটনাকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একই মামলায় রাজ্যের আরেক সাবেক মন্ত্রী রথীন ঘোষও অভিযুক্ত। তবে তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বারবার ইডির হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছেন। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও তৃণমূলের চিফ হুইপ পার্থ চট্টোপাধ্যায়সহ দলটির অন্তত এক ডজন নেতা-মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছিল তদন্তকারী সংস্থা।