ক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী বুধবার (১৩ মে) তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিং যাচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির টানাপড়েনের মধ্যে তার এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সফরে তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ও বাণিজ্যিক বিষয়ে আলোচনা করবেন। খবর এএফপির।
হোয়াইট হাউস সূত্রের খবর অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই সফরের প্রধান লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে চীনকে সরাসরি যুক্ত করা এবং ইরানের ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব খাটিয়ে একটি স্থায়ী শান্তিতে পৌঁছানো। ট্রাম্প মনে করেন, চীন যদি ইরান থেকে জ্বালানি তেল কেনা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক সহযোগিতা কমিয়ে দেয়, তবে তেহরান মার্কিন শান্তি প্রস্তাব মানতে বাধ্য হবে।
আলোচনার তালিকায় ইরানের পাশাপাশি রাশিয়া ও ইউক্রেন সংকটও বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে রাশিয়া ও ইরানের কাছে চীনের দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির বিষয়টি শি জিনপিংয়ের কাছে কঠোরভাবে উত্থাপন করবেন ট্রাম্প। বাণিজ্যিক দিক থেকে এই সফরে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের শুল্ক বা ট্যারিফ যুদ্ধ নিরসন এবং গত বছরের অক্টোবরে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য বিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে কথা হতে পারে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি এবং সামরিক ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একটি সাধারণ নীতিমালায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন দুই নেতা।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অফ হেভেন’ পরিদর্শনের পাশাপাশি বিশেষ চা-চক্র ও রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন। যা দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলাতে প্রতীকী ভূমিকা পালন করতে পারে। মূলত গত মার্চ মাসে এই সফর হওয়ার কথা থাকলেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।