Image description

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ভোট-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে প্রায় ১১০০ জনকে আটক করা হয়েছে।

 

বুধবার বিকেলে রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তর ভবানী ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের মহাপরিদর্শক (ডিজি) সিদ্ধনাথ গুপ্ত।

 

তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে রাজ্যের কয়েকটি এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, মঙ্গলবারও কিছু জায়গায় হয়েছে। তবে বুধবার সকাল থেকে রাজ্যের কোথাও নতুন করে সহিংসতার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, বুলডোজার দেখিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো চেষ্টা সহ্য করা হবে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের শনাক্ত করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

 

সিদ্ধনাথ গুপ্ত সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা থানায় জানাতে হবে, নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া যাবে না। তিনি আরও আশ্বাস দেন, কেউ যদি ভয়ের কারণে থানায় গিয়ে মামলা করতে না পারেন, তাহলে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করবে।

এদিকে তৃণমূল নেত্রী ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে রাজ্য পুলিশ। ডিজি জানান, নিয়ম অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য নিরাপত্তা বহাল রয়েছে। তবে অতিরিক্ত যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল, তা বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্যত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য পুলিশকে সহায়তা করছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। সিদ্ধনাথ জানান, রাজ্যে বর্তমানে ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। রাজ্য পর্যায়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বয়ে একটি যৌথ কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়েও একই ধরনের যৌথ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালুর প্রক্রিয়া চলছে।

রাজ্যজুড়ে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সূত্র: আনন্দবাজার