Image description

►  হরমুজে জাহাজ আক্রান্ত হলে ভয়াবহ হামলা - মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

►  হরমুজ পার হওয়ার প্রচেষ্টার কঠোর জবাব  - ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

হরমুজ প্রণালিতে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হলে ইরানকে ভয়াবহ আক্রমণের মুখে পড়তে হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। গতকাল মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ এ হুমকি দেন। হরমুজে কোনো জাহাজে হামলা না চালানোর জন্য তেহরানকে সতর্ক করে দেন তিনি।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অপারেশন প্রজেক্ট ফ্রিডম চলাকালে যদি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তাহলে ইরানে ভারী হামলা চালানো হবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিশ্বের প্রতি সরাসরি উপহার হিসেবে, আমরা হরমুজ প্রণালিতে একটি শক্তিশালী লাল, সাদা এবং নীল গম্বুজ স্থাপন করেছি। কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হলে ইরানকে ভয়াবহ হামলার মুখে পড়তে হবে।  ইরানের সঙ্গে চলা যুদ্ধবিরতি এখনো শেষ হয়ে যায়নি উল্লেখ করে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতি এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তবে তেহরানকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করতে দেওয়া হবে না।

হেগসেথ জানান, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের এই অভিযান সাময়িক। এর মূল লক্ষ্য হলো ইরানের আগ্রাসন থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া। তাঁর দাবি, ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুটি জাহাজ সফলভাবে এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। এটি প্রমাণ করে যে যাতায়াতের পথ এখন নিরাপদ এবং এই ঘটনায় ইরান ‘লজ্জিত’।

তেহরানকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ইরানকে অবশ্যই বিচক্ষণ হতে হবে। তাদের কর্মকাণ্ড যেন এমন পর্যায়ে না যায় যা নতুন করে সংঘাত উসকে দিতে পারে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের যেকোনো প্রচেষ্টার ‘কঠোর’ জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) রাজনৈতিক শাখার উপপ্রধান ইয়াদুল্লাহ জাভানি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে হস্তক্ষেপ করার যেকোনো মার্কিন প্রচেষ্টাকে ‘কঠোর জবাবের’ মুখোমুখি হতে হবে।

ইরানি সংবাদমাধ্যম আইএসএনএকে জাভানি বলেন, ট্রাম্পের বর্তমান সমস্যা হলো হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা। ৪০ দিনের যুদ্ধ এবং তার পরবর্তী সময়ে তিনি প্রতিটি দরজায় কড়া নেড়েছেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তিনি বলেন, মার্কিন নেতা ইরানের ওপর ‘চাপ প্রয়োগ’ করে এই জলপথটি উন্মুক্ত করার চেষ্টা করছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের  বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে জাভানি বলেন, এর অর্থ হলো আমেরিকা আর কোনো পরাশক্তি নয়, এটি একটি পরাশক্তির মুখোমুখি হয়েছে। আমেরিকার ক্ষয়ক্ষতি ইরানের তুলনায় অনেক বেশি হবে।

জাভানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমেরিকা তার শক্তির পরীক্ষা নেবে, তার সব ক্ষমতা প্রয়োগ করবে এবং  শেষ পর্যন্ত পরাজিত হবে।