হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। গতকাল সোমবার (৪ মে) পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের কথা জানায়। এতে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান নাজুক যুদ্ধবিরতি ভাঙনের মুখে পড়েছে। খবর আল জাজিরার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে হামলা চালায়, তাহলে দেশটিকে পৃথিবীর মুখ থেকে উড়িয়ে দেওয়া হবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার কথাও তুলে ধরেন।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আগের চেয়ে উন্নতমানের অস্ত্র ও সরঞ্জাম রয়েছে। প্রয়োজন হলে তা ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে তিনি ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি পরিকল্পনার কথা জানান। এটির লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সচল করা। একইসাথে ইরানের অবরোধ ভাঙা।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের সহায়তায় দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সূত্র বলছে, এখনো ওই জলপথে স্বাভাবিক চলাচল শুরু হয়নি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, হরমুজ এলাকায় আটকে পড়া জাহাজগুলো ৮৭টি দেশের। তারা এই যুদ্ধের ‘নির্দোষ দর্শক’। গত কয়েক ঘণ্টায় বহু জাহাজ ও শিপিং কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদেরকে জাহাজ চলাচল শুরু করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে ইরান দেখিয়েছে, তারা এখনো হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালাতে সক্ষম।
দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, গতকাল তাদের একটি জাহাজে সংযুক্ত আরব আমিরাত উপকূলে হামলা হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের একটি সামুদ্রিক সংস্থা জানায়, ওই অঞ্চলে আরও দুটি জাহাজে আগুন লেগেছে।
এ ঘটনায় ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়াকে তার উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাতটি ছোট নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে। যদিও ইরান এই দাবি অস্বীকার করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের নতুন হামলা
এদিকে উত্তেজনার মধ্যেই ইরান সোমবার (৪ মে) সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন করে হামলা চালায়। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি ড্রোন প্রতিহত করেছে।
ফুজাইরাহর পেট্রোলিয়াম শিল্প এলাকায় ইরানি হামলায় আগুন লাগে এবং তিনজন আহত হন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই ঘটনাকে গুরুতর উসকানি হিসেবে দেখছে আমিরাত। তারা প্রতিক্রিয়ার কথাও জানিয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ফুজাইরাহর ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের নীতির ফল। তার ভাষ্য, জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপই এই পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে তাদের নৌ অবরোধ এখনো বহাল রয়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, অবরোধ কার্যকর রাখতে অন্তত ৫০টি বাণিজ্যিক জাহাজকে অন্য পথে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজারেও। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।