Image description

পাকিস্তান সরকারের দফায় দফায় চালানো প্রচেষ্টা যেন শেষমেষ বিফলেই যাচ্ছে। দেশটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দ্বিতীয় দফার বৈঠকে মিলিত করার জন্য সপ্তাহব্যাপী চেষ্টা চালিয়েছে। রাজধানী ইসলামাবাদ এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কড়া নিরাপত্তায় লকডাউনে ছিল। দেশটির এতকিছু আয়োজন কোনো আশার আলো দেখেনি। এমন পরিস্থিতিতে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি চললেও তেহরানে আবার হামলার পরিকল্পনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

দুইটি নামহীন সূত্রের বরাতে বুধবার অ্যাক্সিওস জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে আবারো সামরিক অভিযান চালাতে নতুন পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। নতুন পরিকল্পনার বিষয়ে বৃহস্পতিবার সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার ট্রাম্পকে ব্রিফ করবেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থা ভাঙার জন্য বা যুদ্ধ শেষ করার আগে তেহরানে চূড়ান্ত আঘাত হানার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযান পুনরায় শুরু করার কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।

সেন্টকমের পরিকল্পনায় কী আছে?
সূত্রগুলো অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি এবং শক্তিশালী ধারাবাহিক হামলার কথা বিবেচনা করছে সেন্টকম। এসব হামলার মধ্যে ইরানের অবকাঠামোও মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে।
মার্কিন বাহিনী আশা করছে, তেহরানে অবিরাম হামলা চালালে দেশটি পারমাণবিক ইস্যুতে তাদের দাবি কমাবে এবং আলোচনার টেবিলে ফিরবে। এর আগে ট্রাম্প ইরানের পুরো সভ্যতা গুঁড়িয়ে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
বিবিসি বৃহস্পতিবার বলছে, ইতিমধ্যে এই পরিকল্পনা ট্রাম্পের কাছে একটি ‘উচ্চমানের প্রভাবশালী বিকল্প’ হিসেবে পেশ করা হয়েছে। তবে ট্রাম্পের অপেক্ষায় রয়েছে এই অনুমোদন।

অ্যাক্সিওস ও বিবিসি’র তথ্য অনুযায়ী, নতুন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনায় ইরানের তেল রপ্তানি স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার ও আঞ্চলিক মিলিশিয়া নেটওয়ার্কের মতো অবকাঠামোগুলো লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সেন্টকমের আরেক পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির একটি অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এজন্য স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধকে তেহরানের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের প্রধান উৎস হিসেবে দেখছেন। তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান এরপরও নতি স্বীকার না করলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করতে পারেন।

অ্যাক্সিওস তাদের রিপোর্টে আরও জানিয়েছে, ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সুরক্ষিত করতে সেন্টকম একটি বিশেষ বাহিনীর অভিযানের পরিকল্পনাও রেখেছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে একটি আসন্ন হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের ইসলামী শাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পেছনে এটিই অন্যতম প্রধান কারণ।
এদিকে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি আরও জোরদার করেছে মার্কিন বাহিনী। ইতিমধ্যে অঞ্চলটিতে তিনটি মার্কিন রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে।

সর্বশেষ ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি আরও বাড়াতে হাইপারসনিক মিসাইল মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের বিরুদ্ধে ফের যুদ্ধ শুরু হলে মার্কিন বাহিনী দেশটির বিরুদ্ধে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে চায়।
ডার্ক ঈগল নামে পরিচিত এই হাইপারসনিক মিসাইল মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য ইতিমধ্যে সেন্টকম আবেদন জানিয়েছে।
অন্যদিকে ইরান বলেছে, তারা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাথা নত করবে না এবং নতুন করে যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।