বনানী থেকে এয়ারপোর্ট, রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যস্ত সড়কপথ এটি। তবে ঠিক যেন পাদপ্রদীপের নিচেই অন্ধকার। এখানে সড়কের ৮ কিলোমিটার আর রেলপথের ৬ কিলোমিটারজুড়ে গড়ে উঠেছে মাদক-ছিনতাই আর অসামাজিক কার্যক্রমের বড় আখড়া। তাই সন্ধ্যা নামলেই বদলে যায় এই এলাকার দৃশ্যপট। ফলে ভিন্ন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হন এসব এলাকার বাসিন্দা ও পথচারীরাও। মাদক বাণিজ্য আর ছিনতাইয়ের পাশাপাশি অশালীন কর্মকাণ্ড এখানকার পরিচিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সড়কঘেঁষা রেললাইন ও ঝোপঝাড়পূর্ণ নির্জন এলাকাগুলোই এসব অবৈধ কার্যক্রমের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিন বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে রেললাইন ধরে এয়ারপোর্ট স্টেশন পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, রেললাইনের পাশে আগের মতো খুপরি ঘর না থাকলেও এই রুটের অর্ধশতাধিক স্থানে মিলেছে মাদক সেবন ও অশালীন কাজের আলামত। বিশেষ করে কুড়িল বিশ্বরোডের ৩০০ ফিটের মাথায় একটি পরিত্যক্ত ঘরের কয়েকটি ছাউনিবিহীন কক্ষে নিয়মিত চলছে মাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড। সেখানকার ছোট দুটি কক্ষে আবার শূকর পালন করা হচ্ছে। গত সোমবার নোংরা স্যাঁতসেঁতে ওই স্থানে এক নারীকে রান্নার প্রস্তুতি নিতেও দেখা যায়। তার পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এদিকে, খিলক্ষেত বাজার থেকে হজ ক্যাম্পের আগ পর্যন্ত সড়ক ও রেললাইন ঘেঁষা বিভিন্ন দেয়ালের আড়ালে ও ঝোপঝাড়ে অসামাজিক কার্যক্রম চলে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিশেষ করে বিমানবন্দরের ঠিক উল্টোপাশেই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে রেললাইনের ধারে বেশ কয়েটি স্থানে অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো উপযুক্ত স্থানও চোখে পড়েছে। মঙ্গলবার বিকালে সেখানে ভ্রাম্যমাণ ৪ নারী যৌনকর্মীকে দেখা যায়। এদের মধ্য থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, তার বাড়ি বরিশাল, থাকেন প্রগতি সরণির কোকাকোলা এলাকায়। অল্প কয়েকদিন হলো তিনি এখানে এসেছেন। তিনি বলেন, আমার মতো এখানে আরও অনেকে আসে। দিনে তেমন খদ্দের পাওয়া যায় না। সন্ধ্যার পর খদ্দের আসে। ছিনতাইকারীদের বিষয়ে ওই নারী আক্ষেপ করে বলেন, সোমবার রাতে এখানে ২টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ছিনতাইকারীদের অধিকাংশ কাওলা ও এর আশপাশে থাকে। আজ সকালে দুজন এসে আমার কাছ থেকে জোর করে ৩০০ টাকা নিয়ে গেছে। এরা আমাদেরও ছাড়ে না।
আরেক যৌনকর্মী বলেন, সন্ধ্যার পর রাস্তার ধারে থাকি। কাজ এলে খদ্দেরকে এখানে নিয়ে আসি। এদিকে এসময় অন্য কেউ আসে না।
এই ধরনের অসামাজিক কার্যক্রম রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে গোপন নেটওয়ার্ক গড়ে উঠছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে এলাকার পরিবেশ দ্রুত বদলে যায়। সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দালালদের আনাগোনা বাড়তে থাকে এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের টার্গেট করে নারীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে পথচারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা চালানো হয়। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি এখন আর গোপন নেই; বরং প্রকাশ্যেই এসব কার্যক্রম চলছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ বলেন, বনানী থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কে দুই পাশের ঘটনায় আমরা অনেক অভিযান করেছি এবং গ্রেপ্তারও করেছি। আর যারা অপরাধে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে।