বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থা, লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটে শিল্প কারখানার উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন কারখানায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ উৎপাদন কমেছে। আর পোশাক রপ্তানি খাতে ২০ শতাংশের মতো উৎপাদন খরচ বেড়েছে। নতুন করে পরিবহনের বাড়তি ব্যয়ও যুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের দাম না বাড়লেও খরচ বেড়েছে। প্রতিযোগী দেশের তুলনায় রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। টানা ৮ মাসের বেশি সময় ধরে রপ্তানি কমছে। গত ৩ বছরে ৪০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কারখানা তাদের উৎপাদন সক্ষমতার ৭০ শতাংশ ব্যবহার করছে। আরও কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিজিএমইএ তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের আগস্ট মাস থেকে রপ্তানি আয় ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী। কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না। বিগত দুই বছর ধরে শিল্পে বিনিয়োগ কমে গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে। গত ৩ বছরে ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। আরও বহু কারখানা আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে ঋণের সুদের হার ১২ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে। এ ছাড়া ‘বাংলাদেশ শ্রম সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর মাধ্যমে শ্রমিকের বিভিন্ন সুবিধা ও ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। ফলে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, তীব্র জ্বালানি সংকট, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ এবং বৈশ্বিক চাহিদা কমায় ত্রিমুখী চাপে রয়েছে ব্যবসাবাণিজ্য। উৎপাদন কমার পাশাপাশি দ্রুত বাড়ছে ব্যয়। জ্বালানিসংকটে জেনারেটরনির্ভরতা বাড়ায় অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুতের তুলনায় খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সময়মতো পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মো. হাতেম বলেছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে দিনে কমপক্ষে ২ ঘণ্টা কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও ৬-৭ ঘণ্টা কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে শিল্পকারখানাগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। তাই রপ্তানিও প্রতি মাসে একটু একটু করে কমছে। অনেক কারখানা তাদের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করা গেলে এ খাতে রপ্তানি আয় বছরে ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেত। বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকটের কারণে গত ২০ দিনে উৎপাদন খরচ ৩৫ শতাংশ বেড়ে গেছে এবং উৎপাদন ক্ষমতা কমেছে ৩০ শতাংশ। চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে ছোট-বড় অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং উদ্যোক্তারা ব্যাংক ডিফল্টার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।