Image description

ফিলিস্তিনপন্থি সক্রিয়তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ আইনি লড়াই ও কারাভোগের পর অবশেষে নিজের দেশ তুরস্কে ফিরে গেছেন টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুমেসা ওজতুর্ক। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নির্বাসনের প্রচেষ্টার মুখে এক বছর ধরে চলা উত্তেজনার পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সরকারের সঙ্গে আইনি সমঝোতার মাধ্যমে এই ঘটনার অবসান ঘটে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

 

রুমেসা ওজতুর্ক টাফটস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিশু শিক্ষা ও মানব উন্নয়ন বিষয়ে তার পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। গত বছরের মার্চ মাসে ম্যাসাচুসেটসের একটি রাস্তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে এবং গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি নিবন্ধে স্বাক্ষর করেছিলেন। এই কারণ দেখিয়ে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার স্টুডেন্ট ভিসা বাতিল করে দেয় এবং তাকে লুইজিয়ানার একটি বন্দিশিবিরে ৪৫ দিন আটকে রাখে।

 

ওজতুর্কের আইনজীবীরা জানান, ট্রাম্প প্রশাসন রুমেসাকে নির্বাসিত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। এমনকি গত জানুয়ারিতে যখন একজন অভিবাসন বিচারক ওজতুর্ককে নির্বাসনের আবেদন খারিজ করে দেন, তার এক সপ্তাহ পর ট্রাম্প প্রশাসন ওই বিচারককে বরখাস্ত করে। তবে চাপের মুখেও আইনি লড়াই চালিয়ে যায় আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)।

 

শুক্রবারের সমঝোতায় শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসন স্বীকার করেছে, ওজতুর্ক যখন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন তখন তার অবস্থান সম্পূর্ণ বৈধ ছিল।

 

তুরস্কে ফেরার আগে এক বিবৃতিতে রুমেসা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমি যে রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ও শত্রুতার শিকার হয়েছি, তার মূলে ছিল কেবল মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলা। আমি আর সময় নষ্ট করতে চাই না। একজন নারী গবেষক হিসেবে নিজের কর্মজীবন গড়ার লক্ষ্য নিয়ে আমি সগৌরবে নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছি।

 

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, রুমেসা ওজতুর্কের এই ঘটনাটি ট্রাম্প প্রশাসনের সেই নীতিরই অংশ, যার মাধ্যমে ফিলিস্তিনপন্থি বিদেশি শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। তবে পিএইচডি শেষ করে রুমেসার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার লড়াইয়ে একটি বড় জয় হিসেবে দেখছেন তারা।