অনলাইন অপরাধের জাল আরও বিস্তৃত হচ্ছে প্রতিদিন। ঠিক সেই পথ ধরেই সম্প্রতি দেশের স্বনামধন্য এক ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো জাল করে সরল বিশ্বাসী মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র। তবে অবশেষে তাদের অপরাধের ছক ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। চক্রের এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চলছে বাকিদের সন্ধানে তল্লাশি।
বৃহস্পতিবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. তাজুল ইসলাম (৩১)। তিনি বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
বুধবার ঢাকার মিরপুর মডেল থানাধীন কল্যাণপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করে সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট টিম।
জানা গেছে, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন প্রতারণার শিকার এক ব্যক্তি। মামলার এজাহার থেকে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে চোখে পড়ে একটি লোভনীয় বিজ্ঞাপন। সেখানে বিশ্বব্যাংকের সাবেক এক কর্তা ও কয়েকজন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদের নাম ও ছবি জুড়ে দেওয়া হয় বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের জন্য। শেয়ারবাজারে ‘নিশ্চিত মুনাফা’ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর একটি সফটওয়্যারের কথা বলে ভুক্তভোগীকে প্রথমে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়।
প্রথম দিকে অল্প টাকা বিনিয়োগে কিছু লাভ দেখানো হলে ভুক্তভোগী আরও বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করতে থাকেন। প্রতারকচক্রটি বিভিন্ন ব্যাংকের নামে খোলা একাধিক হিসাব ব্যবহার করে ধাপে ধাপে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ২১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৭ টাকা হাতিয়ে নেয়। সবশেষে ‘বড় অঙ্কের শেয়ার বরাদ্দ’ পেতে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলে ফাঁদটি বুঝতে পারেন ভুক্তভোগী। এরপরই তিনি আইনের আশ্রয় নেন।
মামলার তদন্তে নেমে সাইবার পুলিশ সেন্টারের তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানতে পারেন, এই চক্রটি শুধু বাংলাদেশ নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সক্রিয়। গ্রেপ্তারকৃত তাজুল ইসলাম ছিল চক্রটির অর্থ সরবরাহের মূল জোগানদাতা। সে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বল্প মূল্যে ব্যাংক হিসাব ও ডেবিট কার্ড কিনে এনে চক্রের সদস্যদের দিত। পরবর্তীতে ওইসব হিসাব ও কার্ড ব্যবহার করেই প্রতারণার টাকা লেনদেন করা হতো। নিজের নামেও একটি ব্যাংক হিসাবে জাল টাকা জমা রাখার তথ্যও তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
গ্রেপ্তারের পর তাজুল ইসলামের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে সেখানে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে ও আইনি পদক্ষেপ নিতে সিআইডি সবসময় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকে।
তিনি বলেন, অনলাইনে বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির সত্যতা নিশ্চিত হয়ে নেয়া জরুরি। কোনো অপরিচিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বা ফেসবুক লিংকে যুক্ত হয়ে অর্থ লেনদেন না করার জন্য আমরা সাধারণ মানুষের সতর্ক হওয়া দরকার। প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় বা সাইবার পুলিশ সেন্টারে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সিআইডির পক্ষ থেকে।