ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির হয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী, উপস্থাপিকা, সমাজসেবিকা দিঠি আনোয়ার।
তিনি প্রয়াত বরেণ্য গীতিকার, চলচ্চিত্র পরিচালক গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মেয়ে। গাজী মাজহারুল আনোয়ার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বুকে লালন করতেন। একসময় গাজী মাজহারুল আনোয়ার জাসাসের সভাপতি হন, পরে বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক হন। তারও পরে তিনি খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেন। অর্থাৎ জীবনের শেষ সময়টুকু পর্যন্ত গাজী মাজহারুল আনোয়ার বিএনপির হয়েই কাজ করেছেন। তারই যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বাবার আদর্শ বুকে নিয়েই বিএনপির হয়ে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন দিঠি।
সিলেট অথবা কুমিল্লার কোনো একটি আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে কাজ করতে আগ্রহী। দিঠি আনোয়ার বলেন, ‘আমার বাবা যেমন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বুকে লালন করে রাজনীতি করে গেছেন তেমনি আমার শ্বশুর শফি আহমেদ চৌধুরীও সিলেট-৩ আসন থেকে দুবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য হয়ে এলাকার বহু উন্নয়ন করেছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন লতিফা-শফি চৌধুরী মহিলা ডিগ্রি কলেজ, যার সভাপতি আমি। যেখানে এখন তিন হাজার শিক্ষার্থী বিনা বেতনে পড়াশোনা করছে।’
কেন তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে জানতে চাইলে আমার দেশকে তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের সংস্কৃতি থেকে অপসংস্কৃতিটা দূর করতে চাই। ইউটিউব কনটেন্টের ক্ষেত্রেও সেন্সর আনা জরুরি। আমাদের রয়েছে হাজার বছরের সংগীতের ঐতিহ্য কিন্তু রয়্যালিটির ব্যাপারে এখনো কোনো সঠিক সিদ্ধান্ত আসেনি। পাশের দেশ ভারতে রয়্যালিটি নিয়েই শিল্পীর পরিবার সুন্দরভাবে জীবন যাপন করছে। এ বিষয়টি নিয়ে আমি বিশেষভাবে কাজ করতে চাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘একদল ক্ষমতায় এলেই শিল্পীরা যে ব্ল্যাক লিস্টেড হয়ে যানÑএই বিষয়টির পরিত্রাণ করতে চাই। অবশ্যই যারা রাষ্ট্রদ্রোহী তাদের বিষয়টি আলাদা। আমি নিজেও পনেরো বছর বিটিভি, রেডিওতে কাজ করার সুযোগ পাইনি। আমাদের একসময়কার মুখরিত বিএফডিসিকে ঠিকঠাকভাবে কাজে লাগাতে চাই। সত্যি বলতে কী, সংস্কৃতিকে ঘিরেই আমার অনেক পরিকল্পনা। সংস্কৃতির সব ক্ষেত্রে উৎসবমুখর সেই দিনগুলো ফিরিয়ে আনতে চাই। আমার অনেক পরিকল্পনা, সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতেই একজন নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়াটা খুব জরুরি। যে কারণে আমি রাজনীতির আশ্রয় নিয়েছি। আমাকে সুযোগ দিলে আমি শতভাগ সততার সঙ্গে কাজ করব, কাউকেই নিরাশ করব না। আমি মনে করি, আমাকে নির্বাচিত করলে দল এবং দেশের জন্যই প্লাস হবে।’
এদিকে দিঠি পহেলা বৈশাখের দিন দুটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। কয়েকদিনের মধ্যে তিনি মাছরাঙা ও এটিএন বাংলায় সরাসরি গানের অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন। এছাড়া আগামী ২৪ এপ্রিল তিনি গুলশান ক্লাবে সংগীত পরিবেশন করবেন।