রাশিয়ার তেল রপ্তানি থেকে আয় মার্চ মাসে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন জানায়, সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, মার্চে রাশিয়া তেল ও তেলজাত পণ্য রপ্তানি করে প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। রপ্তানির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে দিনে প্রায় ৭ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৩ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল।
এ বৃদ্ধির পেছনে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মার্কিন কিছু নিষেধাজ্ঞার শিথিলতা। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আরোপিত রাশিয়ার তেল বিক্রির কিছু বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করে, যাতে এরই মধ্যে সমুদ্রে থাকা তেল ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ কিনতে পারে।
এদিকে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই পুনরায় বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। উভয় পক্ষকে দ্বিতীয় দফায় আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই পাকিস্তানি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই আগামী দিনগুলোতে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। কর্মকর্তারা বলেছেন, উভয় পক্ষই ভেন্যু হিসেবে ভিন্ন কোনো স্থানের অনুরোধ করে কি না, তার ওপরই এই প্রস্তাবটি নির্ভর করবে।
রয়টার্স ও এপির তথ্যমতে, ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের উদ্ধৃতি দিয়ে এপি জানিয়েছে, দুই পক্ষ বৃহস্পতিবারের মধ্যেই দ্বিতীয় দফা আলোচনার দিকে এগোতে পারে।
কর্মকর্তাদের একজন বলেছেন, কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও প্রথম আলোচনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ছিল না। বরং এটি একটি চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ ছিল। দ্বিতীয় দফায় আলোচনার আয়োজক ভেন্যু হিসেবে আবারও ইসলামাবাদকে প্রস্তাব করেছে পাকিস্তান। তবে ওয়াশিংটনের পছন্দে জেনেভা থাকতে পারে।
যদিও ভেন্যু ও দিনক্ষণ এখনও নির্ধারিত হয়নি।
মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ছয় সপ্তাহের যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য উভয় পক্ষ নতুন করে মুখোমুখি আলোচনার কথা বিবেচনা করছে।
‘ইসলামাবাদ সংলাপের’ পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। পাকিস্তানও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। সেখানে পাঁচ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে বিরত থাকতে সম্মত হয়েছে তারা। তবে ওয়াশিংটনের দাবি, কমপক্ষে ২০ বছরের জন্য এই পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসতে তেহরানকে।