Image description

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নৌ অবরোধ কার্যকর করতে ১৫টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এই অভিযানে অ্যামফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপ ইউএসএস ট্রিপোলি (এলএইচএ ৭) আরব সাগরে এফ-৩৫বি লাইটনিং টু স্টেলথ ফাইটার ও এমভি-২২ ওস্প্রে বিমান পরিচালনা করছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে, হরমুজে অবরোধ শুরু হয়েছে। এটি আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরসহ ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ ও প্রস্থানকারী সব জাহাজের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষভাবে কার্যকর হবে। তবে তারা জানিয়েছে, ইরানি নয় এমন বন্দর থেকে আসা বা সেখানে যাওয়া জাহাজের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে কোনো বাধা দেয়া হবে না।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, ইউএসএস ট্রিপোলি (এলএইচএ ৭) আরব সাগরে চলাচলের সময় রাতের ফ্লাইট অপারেশন পরিচালনা করছে। জাহাজটি প্রচলিত ওয়েল ডেক ছাড়া ডিজাইন করা হয়েছে, ফলে এতে আরও বেশি এফ-৩৫বি স্টেলথ ফাইটার, এমভি-২২ ওস্প্রে, হেলিকপ্টার এবং অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা রাখা সম্ভব। সর্বোচ্চ অপারেশনে এটি ২০টিরও বেশি এফ-৩৫বি সমর্থন দিতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সতর্ক করে বলেন, ইরানের কোনো দ্রুতগতির আক্রমণকারী নৌযান অবরোধের কাছাকাছি এলে তা ধ্বংস করে দেয়া হবে। একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তিনি দাবি করেন, যুদ্ধে ইরানের নৌবাহিনীর বড় অংশ ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি লিখেছেন, ইরানের নৌবাহিনী সমুদ্রের তলদেশে পড়ে আছে- সম্পূর্ণ ধ্বংস, ১৫৮টি জাহাজ। আমরা শুধু তাদের অল্প কয়েকটি ‘ফাস্ট অ্যাটাক শিপ’ ধ্বংস করিনি। কারণ আমরা সেগুলোকে বড় হুমকি মনে করিনি।

সতর্কবার্তা: এই জাহাজগুলো যদি আমাদের অবরোধের কাছে আসে, তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হবে।

আলোচনার ব্যর্থতার পর অবরোধ
এই অবরোধ কার্যক্রম শুরু হয়েছে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পর, যেখানে কোনো চুক্তি হয়নি। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনার। তারা ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। ডনাল্ড ট্রাম্প রোববার এই অবরোধের ঘোষণা দেন।

যুদ্ধবিরতির মাঝেই নতুন উত্তেজনা
এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, এই অবরোধ ইরানের বন্দর থেকে বের হওয়া বা সেখানে প্রবেশ করতে চাওয়া সব জাহাজের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও অবরোধ কার্যকর হয়েছে- এমন কোনো তাৎক্ষণিক ঘোষণা বা জাহাজ আটকানোর খবর পাওয়া যায়নি। এই পদক্ষেপ এমন সময় নেয়া হলো, যখন গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, যাতে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়।