ঐক্যবদ্ধ ইউরোপের ‘কাঁটা’ হিসেবে দেখা হতো হাঙ্গেরির সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর অরবানকে। দীর্ঘ ১৬ বছর তিনি হাঙ্গেরির ক্ষমতার মসনদে টিকেছিলেন। ক্ষমতার মসনদ থেকে তার বিদায়ে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো ইউরোপীয় ইউনিয়েনের (ইইউ) সদস্য দেশগুলো। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে শান্তিবাদী মহলেও দেখা গেছে উচ্ছ্বাস।
অরবানের পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালো সমর্থন ছিল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাকে সমর্থন দেন। এমনকি নির্বাচনের আগে হাঙ্গেরিতে গিয়ে প্রচারণায় অংশ নেন মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স। তিনি বুদাপেস্টে অবস্থান করে অরবানের পক্ষে বক্তব্যও দেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা করেন।
তবে শেষ পর্যন্ত জনমতের রায়ে টিকতে পারেননি অরবান। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে তার শাসনে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বিতর্কিত নীতিমালার কারণে জনঅসন্তোষ তৈরি হয়।
নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পিটার মাগিয়ার, যিনি নতুন রাজনৈতিক ধারার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন অর্জন করেন। প্রায় ৯৮ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ১৯৯ আসনের পার্লামেন্টে তার দল বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে।
অরবানের বিদায়ে ইউরোপীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ব্রাসেলসের সঙ্গে বুদাপেস্টের টানাপোড়েন কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। গণতান্ত্রিক মানদণ্ড নিয়ে বিরোধের জেরে হাঙ্গেরির জন্য যে তহবিল আটকে রাখা হয়েছিল, তা পুনর্বিবেচনার পথও খুলতে পারে।
উল্লেখ্য, অরবান তার শাসনামলে অভিবাসনবিরোধী কড়া অবস্থান, এলজিবিটিকিউ অধিকার সীমিতকরণ এবং গণমাধ্যম ও বিচারব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে ব্যাপক সমালোচিত হন। ২০১৫ সালের ইউরোপীয় অভিবাসন সংকটের সময় তার কঠোর নীতির কারণে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত হয়ে ওঠেন।
এছাড়া রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাডিমির পুটিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার কারণেও তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে বিতর্কিত ছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ও তিনি ইইউর কিছু সিদ্ধান্তে বাধা দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, বিজয়ের পর পিটার মাগিয়ার বলেন, “এই জয় জনগণের। আমরা সবাই মিলে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছি। এখন সময় হাঙ্গেরিকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার।”
এই নির্বাচনের ফলাফলকে অনেকেই গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং উদার মূল্যবোধের জয় হিসেবে দেখছেন। ইউরোপীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
শীর্ষনিউজ