Sabina Ahmed (সাবিনা আহমেদ)
ইসলামাবাদ ইরানি ডেলিগেটদের লাল গালিচা সম্বোধন দিয়েছে। পাকিস্তানের ফরেন মিনিস্টার ইশাক দার, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি স্পিকার এবং আর্মি চিফ ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির নিজে এয়ারপোর্টে যে ইরানি ডেলিগেটদের রিসিভ করেছেন। এই দুই দেশের সরকার আর জনগণের মাঝে ভাইচারা দেখে একদিকে যেমন ভালো লাগছে, তেমনি নিজেদের কথা ভেবে দুঃখও লাগছে। পুরো আন্তর্জাতিক বিশ্ব থেকে শুরু করে মুসলিম বিশ্বে আমাদের কোনো অবস্থান নেই। উই আর ল্যাগিং ইন সো ম্যানি ওয়েজ—কেউ হাত বাড়ালেও যাই না। নিজের কুয়ায় বিশাল ব্যাঙ!
ইরানি ফরেন মিনিস্টার আব্বাস আরাঘছি এখন বিশ্বের সবচেয়ে পপুলার ডিপ্লোম্যাট! বিশেষ করে আমেরিকার জেন-জি আর টিকটক জেনারেশনের মধ্যে ভাইরাল—তাঁর কাম ডিমিনার, শার্প স্টেটমেন্ট আর প্রফেশনাল অরা দেখে অনেকে “ড্যাডি ডিপ্লোম্যাট” বলে ফ্যান-গার্লিং করছে। আরাঘছি শুধু ডিপ্লোম্যাট নন, ব্রিটিশ-এডুকেটেড পিএইচডি হোল্ডার—ইরানের সবচেয়ে পাওয়ারফুল ফরেন মিনিস্টার হিসেবে এখন সবার কাছে পরিচিত।
আমেরিকানরা এসেছে প্রায় ৩০০ জনের বিশাল ডেলিগেশন নিয়ে—সিংহভাগ সিকিউরিটি পার্সোনেল। মূল আলোচকরা বেশিরভাগ ব্যাচেলরস ডিগ্রির। অন্যদিকে ইরানিরা এসেছে মাত্র ৭০ জনের টিম নিয়ে—কিন্তু মূল নেগোশিয়েটররা সবাই পিএইচডি ডিগ্রিধারী, সিরিয়াস, এক্সপেরিয়েন্সড এবং প্রফেশনাল। ইরানিদের সামনে আমেরিকানদের দেখতে যেন স্কুলের বাচ্চাদের মতো লাগছে।
আগে শোনা যাচ্ছিল উভয় পক্ষ মুখোমুখি বসে আলোচনা করবে। কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে তারা আলাদা আলাদা রুমে বসবে, আর পাকিস্তানি মিডিয়েটররা দুই রুমের মাঝে বার্তা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করবে। দিস ইজ নট গুড সাইন। এই “প্রক্সিমিটি টকস” ফরম্যাট দেখে মনে হচ্ছে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও গভীর অবিশ্বাস আর দূরত্ব রয়েছে।
জেডি ভ্যান্স যদি এই প্রাথমিক আলোচনাকে সময় সীমা বাড়াতে না পারেন, তাহলে সেটা তার ব্যর্থতা হিসাবে দেখা যাবে। এর ইমপ্যাক্ট পড়বে সামনের নভেম্বরের মিডটার্ম ইলেকশনে এবং পরবর্তী প্রেসিডেনশিয়াল ইলেকশনে—ট্রাম্প অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের জন্য এটা বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি।
আমেরিকা কিন্তু কিছুই দাবি আগেই মেনে নিয়েছে যার প্রেক্ষিতে ইরান এই আলোচনায় এসেছে। ইরান তাদের ১০-পয়েন্ট প্রপোজালকে বেস হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। আমেরিকা সেই প্রস্তাবকে “ওয়ার্কেবল বেসিস” বলে স্বীকার করেছে। সিজফায়ার চুক্তিতে ইরানের সমন্বয়ে স্ট্রেইট অফ হরমুজে অস্থায়ী নিরাপদ পথচলাচল মেনে নেওয়া হয়েছে—যেটা ইরান “বড় বিজয়” হিসেবে দেখছে। এবং ইসরায়েল গত ১০ ঘণ্টায় লেবাননকেআর সরাসরি নতুন বড় কোন অ্যাটাক করেনি। তবে এখনও নিউক্লিয়ার ইস্যু, মিসাইল, লেবানন ইত্যাদি বিষয়ে বিশাল গ্যাপ আছে।
পাকিস্তান এখন গ্লোবাল স্টেজে একটা বড় ডিপ্লোম্যাটিক প্লেয়ার হয়ে উঠেছে। ইসলামাবাদের আলোচনা যদি যে কোনও মাত্রায় সফল হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আগামী ১০০ বছরের জন্য বদলে যাবে।