Image description

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির পরও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামেনি। বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা চলছে। অপরদিকে কুয়েতও ইরানের ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।

 

বিবিসির ফ্রাঙ্ক গার্ডনার জানান, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির পর বড় ধরনের বোমা হামলা কমেছে, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এটি কেবল নামেই যুদ্ধবিরতি, বাস্তবে এর প্রতিটি দিকই ত্রুটিপূর্ণ। কুয়েত দাবি করেছে, গত কয়েক ঘণ্টায় তারা ইরানি ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। লেবাননেও যুদ্ধের তীব্রতা কমেনি। দেশটিতে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলছে। এভাবে মার্কিন মিত্র ও ইরানের মিত্ররা যুদ্ধ করছে, যা মূলত দুপক্ষের পরোক্ষ যুদ্ধ।

 

লেবাননে হামলার বিষয়ে ইসরায়েল মনে করছে, এই যুদ্ধবিরতি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অপরদিকে পাকিস্তান ও ইরান জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতিতে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত।

 

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশ যে পথ দিয়ে প্রবাহিত হয়, সেই গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ এখন উত্তপ্ত। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ইরান তাদের চুক্তি রক্ষা করছে না। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইরান বর্তমানে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

 

 

যদিও সামরিকভাবে ইরান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের শত শত বা হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। তবুও রাশিয়া ও চীনের সহায়তায় তারা দ্রুত এগুলো পুনর্নির্মাণ করতে সক্ষম। বর্তমান যুদ্ধে টিকে যাওয়ার মাধ্যমে ইরান দীর্ঘদিনের অবরোধের সীমাবদ্ধতা ভেঙে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। মাত্র ছয় সপ্তাহ আগেও ইরান হরমুজ প্রণালিকে লক্ষ্যবস্তু করত না, কিন্তু এখন তারা সেখানে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর টোল বা মাশুল আরোপের প্রস্তাব দিচ্ছে। এছাড়া নৌযানের মালামাল তল্লাশি করতে চাইছে। যদিও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর কাছে এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে জাহাজের ওপর টোল আরোপ করতে পারলে ইরানের অর্থনীতি দ্রুত শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং দীর্ঘদিনের মার্কিন অবরোধের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাবে।

 

ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য দেখাচ্ছে। সামরিক শক্তি দিয়ে এই নৌপথ উন্মুক্ত রাখা কার্যত অসম্ভব। এই অঞ্চলের অসংখ্য খাঁজ ও গুহায় ইরান যদি মাত্র একটি ক্ষেপণাস্ত্রও লুকিয়ে রাখতে পারে এবং হামলার হুমকি বজায় রাখে, তবেই বিমা কোম্পানিগুলো ঝুঁকির কারণে জাহাজের যাতায়াত খরচ বাড়িয়ে দেবে। এর ফলে এ জলপথে নৌ-চলাচল অসম্ভব হয়ে যাবে। এই আধিপত্য বজায় রাখতে ইরানের শক্তিশালী নৌবাহিনীর প্রয়োজন নেই, তাদের ভৌগোলিক উপকূলরেখাই যথেষ্ট।