Image description

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী মো. আল-আমিন তালুকদার মাত্র ৪৯৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। অথচ নির্বাচনে তার পোলিং এজেন্টের সংখ্যা ছিল ৮৩৫ জন।

 

নির্বাচনের হিসাব বলছে, মোট প্রদত্ত ভোটের মাত্র ০.২৬ শতাংশ পেয়েছেন এই প্রার্থী। অথচ জামানত বাঁচাতে প্রয়োজন ছিল অন্তত সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট। সে তুলনায় তিনি ছিলেন অনেক দূরে।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে ১৫০টি কেন্দ্রের ৮৩৫টি কক্ষে তার পোলিং এজেন্ট উপস্থিত ছিলেন। অর্থাৎ, কাগজে-কলমে প্রতিটি কক্ষে তার প্রতিনিধি থাকলেও ভোট বাক্সে সেই উপস্থিতির কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। নির্বাচনের আগে থেকেই প্রার্থীর কার্যক্রম ছিল প্রায় অদৃশ্য। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তাকে জনসম্মুখে দেখা যায়নি। শহরের কোথাও ছিল না পোস্টার, ব্যানার বা প্রচারণার কোনো চিহ্ন। এমনকি নির্বাচন কমিশনে দেওয়া তার মোবাইল নম্বরও বেশিরভাগ সময় বন্ধ পাওয়া গেছে।

 

এদিকে ‘ফুলকপি’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলেও তিনি ভোটারদের কাছে প্রায় অপরিচিতই ছিলেন। ফলে শুরু থেকেই অনেকেই তার জামানত হারানোকে একপ্রকার নিশ্চিত ধরে নিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত যে ফলাফল সামনে এসেছে—৮৩৫ এজেন্ট থাকার পরও মাত্র ৪৯৯ ভোট—তা এই উপনির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত ও প্রশ্নবিদ্ধ বিষয় হয়ে উঠেছে।

 

এ বিষয়ে জানতে প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার কোনো প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তার মন্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

 

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে বেসরকারিভাবে তার জয় নিশ্চিত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৫১টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই উপনির্বাচনে (একটি পোস্টাল ব্যালটসহ) মোট ভোট পড়েছে ৪২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এর মধ্যে বিএনপি মনোনীত রেজাউল করিম বাদশা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৫৯। এছাড়া বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আল আমিন তালুকদার পেয়েছেন ৪৯৯ ভোট।

 

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২ লাখ ১৬ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ভোট। তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে আজ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।