মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে বৃহস্পতিবার দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভা থেকেই মমতা অভিযোগ করে বলেন, মালদহের ঘটনা বিজেপির ‘পরিকল্পনাপ্রসূত’। তার কথায়, এটা ওদের গেম প্ল্যান। বিজেপি চায় এখানকার নির্বাচন বাতিল করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে।
মালদার ঘটনার জন্য সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ‘চক্রান্তকারী’ বলে তোপ দাগেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বিজেপি অনেক পরিকল্পনা করেছে। অমিত শাহ চক্রান্তের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করছেন। বিজেপির পাশাপাশি নাম না করে মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এবং সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক তথা নবগঠিত আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
জেলায় জেলায় ঘুরে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার করছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর থেকে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ হয়ে মালদহে সভা করেন মমতা। এসব সভা থেকেই বিজেপিকে আক্রমণ করেন তিনি।
মমতা বলেন, হায়দরাবাদ থেকে কেউ উড়ে এলো আর বিজেপি একটা গাদ্দারকে টাকা দিয়ে আপনাদের উত্তেজিত করল। আপনাদের দিয়ে রাস্তা অবরোধ করাল, বিচারকদের ঘেরাও করাল। ফলাফলটা কী হলো?
এদিন সভায় মুখ্যমন্ত্রী আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, প্রশাসনিক কোনো বিষয়ে তার আর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। মালদহের ঘটনা নিয়েও প্রশাসনের তরফে তাকে কিছু বলা হয়নি বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমার হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে রাজ্যের বদনাম করা হয়েছে। নতুন মুখ্যসচিব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। আমায় জানানওনি। এই সূত্রেই কমিশনের আধিকারিক অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
কমিশনের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেখেছেন তো, যাদের নিযুক্ত করছেন, তারা কেমন কাজ করছেন? যারা আসলে কাজ করতেন, তাদের তামিলনাড়ু, কেরালায় পাঠিয়ে দিয়েছেন। তারা চিনতেন, জানতেন। সবাই সবকিছু পারে না।
মালদহের ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। মমতা সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে সভায় বলেন, ঠিক বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। তার পরেই আদালতের নির্দেশের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তিনি বলেন, আপনারা কি জানেন না, যারা আন্দোলন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সিবিআই করেছে, এনআইএ করেছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় বহু মানুষের ন্যায্য ক্ষোভ রয়েছে, কিন্তু সেই ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে আইন নিজেদের হাতে তুলে না নেওয়ার অনুরোধও করেন তিনি।
মমতা বলেন, আপনাদের ন্যায্য ক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু আইন হাতে তুলে নেবেন না। লড়াইয়ের রাস্তাটা বন্ধ করে দেবেন না। রাজ্যের বদনাম হয়েছে। নতুন মুখ্যসচিব সামলাতে পারেননি। আপনারা চান আমি অপমানিত হই? আর কত অপমানিত হব? প্রতিশ্রুতি আদায়ে তার ওপর মানুষের বিশ্বাসকে বাজি ধরেছেন মমতা। সভামঞ্চের সামনে থাকা মানুষজনের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি আমার ওপর বিশ্বাস থাকে, তাহলে দয়া করে উত্তেজনায় পা দেবেন না। রক্ষা করুন বাংলাকে। নিজেদের অধিকার রক্ষা করুন। আমি তো বলেছি আপনাদের, কাউকে আমি বার করতে দেব না। কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে না।
প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুরসহ বিভিন্ন এলাকা। কলকাতা-শিলিগুড়ি (১২ নম্বর) জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় জনতা। কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের বাইরেও বিক্ষোভ শুরু হয়। তখন ওই ব্লক অফিসের ভেতরে ছিলেন এসআইআরের কাজে নিযুক্ত সাত বিচার বিভাগীয় আধিকারিক। ব্লক অফিসে তাদের ঘেরাও করে রাখা হয়। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আটকে থাকার পর পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আন্দোলনকারীদের পাল্টা অভিযোগ, ঘেরাও হয়ে থাকা বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের উদ্ধার করার সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে। তারপর বিচারকদের নিয়ে কনভয় যখন যাচ্ছিল, তখন একটি গাড়ি একজন আন্দোলনকারীকে ধাক্কা মারে বলে বলে অভিযোগ।