ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং একইসঙ্গে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে সতর্কতা দিয়েছেন শতাধিক মার্কিন আইন বিশেষজ্ঞ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি আবার ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধনগারে হামলার হুমকি দেওয়ার পর এই উদ্বেগের কথা জানান তারা। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক খোলা চিঠিতে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মার্কিন বাহিনীর কার্যক্রম এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা তৈরি করেছে। স্বাক্ষরকারীর তালিকায় ছিলেন হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক বিশেষজ্ঞ।
চিঠিতে মার্চের মাঝামাঝি দেওয়া ট্রাম্পের একটি মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র চাইলে শুধু মজা করার জন্যই ইরানে হামলা চালাতে পারে।’
এ ছাড়া মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্বোধ নিয়ম মেনে যুদ্ধ করে না।’
পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ঘরবাড়িতে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে চিঠিতে। বিশেষ করে যুদ্ধের প্রথম দিন একটি স্কুলে হামলার কথা উল্লেখ করা হয়। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের মতে, ওই হামলায় ১৭৫ জন নিহত হয়েছিল।
গত বুধবার এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প ইরানে হামলা জোরদারের হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাদের ওপর এমনভাবে হামলা করব যে তারা আবার প্রস্তর যুগে ফিরে যাবে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে হামলার মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। এর জবাবে তেহরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত হাজারও মানুষ নিহত এবং কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।