ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর স্থল আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রায় ৭০ লাখ বেসামরিক ইরানি প্রস্তুত রয়েছে। নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় এবং বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ তার এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে এই তথ্য জানান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার অংশীদার হিসেবে তাকে বিবেচনা করা হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি একাধিক অনলাইন পোস্ট দিয়েছেন।
ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ওপর যে কোনো মার্কিন স্থল আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ৭০ লাখ ইরানি প্রস্তুত রয়েছে বলে দাবি বাঘের কালিবাফের।
এক্স পোস্টে তিনি বলেন, ‘আগামী এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া একটি শক্তিশালী জাতীয় আন্দোলন প্রায় ৭০ লাখ ইরানিকে সামনে এনেছে। তারা ইতোমধ্যে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে ও আমাদের জাতির প্রতিরক্ষায় দাঁড়াতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিয়েছেন।’
এই দাবিটি বেশ কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চর্চা হচ্ছিল। প্রায় ৯ কোটি জনসংখ্যার দেশ ইরানে বাঘের কালিবাফই প্রথম উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, চর্চিত এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন।
তবে এই পরিসংখ্যানটি কোথা থেকে এসেছে, তা স্পষ্ট নয়। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের দাবি থেকে বোঝা যাচ্ছে, দেশটি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে জনগণকে স্বেচ্ছাসেবী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সরকারও অবসরপ্রাপ্ত সৈন্যদের যুদ্ধে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করতে আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) স্বেচ্ছাসেবী শাখা বাসিজ বাহিনী ১২ বছর বয়সি শিশুদেরও তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করা শুরু করেছে।
এর আগে, জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাদের ওপর চরম আঘাত হানব। আমরা তাদের ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে নিয়ে যাব, যেখানে তাদের থাকা উচিত।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তুচ্ছ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র। সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, সামনে আসছে বিপর্যয়কর, আরও বিস্তৃত ও বিধ্বংসী আঘাত।
আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই দুই দেশ তেহরানের সামরিক সক্ষমতা ও সরঞ্জাম সম্পর্কে অসম্পূর্ণ তথ্য রাখে।
তিনি বলেন, ইরানের সামরিক উৎপাদন এমন জায়গায় হয়; যার ব্যাপারে আপনাদের কোনো ধারণাই নেই। ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার ব্যাপকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে বলে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানি ওই সেনা কর্মকর্তা। ওই মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে শুরু করা আগ্রাসনের মূল্য দিতে হবে।