Image description

যুক্তরাষ্ট্রের আরও দুটি অত্যাধুনিক গোয়েন্দা নজরদারি ও অ্যাটাকিং ড্রোন এমকিউ-৯ রিপার প্রতিহত ও সফলভাবে ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। এ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর ১৬টি হান্টার-কিলার খ্যাত এই ড্রোন হারাল পেন্টাগন। জেনারেল অ্যাটমিক্স অ্যারোনটিক্যাল সিস্টেমস নির্মিত এই ড্রোনটি ভূমি বা সমুদ্রের ওপর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিতকরণ এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানত। প্রতি ইউনিটের মূল্য প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে ১৬টি ড্রোনের মূল্য ৪৮০ মিলিয়ন ডলার।

 

বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) সিবিএস নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কাছে প্রায় ২৮৭টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হস্তান্তর করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে অন্তত ১১ থেকে ১৬টি এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে।

 

ইরানের সেনাবাহিনী তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানায়, ‘গত কয়েক ঘণ্টায় সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দুটি শত্রু মার্কিন-জায়নবাদী এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। পোস্টটিতে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের একটি ছবিও যুক্ত করা হয়েছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন মার্কিন কর্মকর্তা বুধবার সিবিএস নিউজকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মধ্য ইরানের ইস্ফাহানের কাছে আরও দুটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে। এর ফলে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে মোট ১৬টি ড্রোন হারানোর ঘটনা ঘটেছে। তবে ঠিক কোন সময় ড্রোন দুটি ধ্বংস করা হয়েছে, তা জানাননি কর্মকর্তারা।

 

মার্কিন কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার ইরানের ভূপাতিত করার দাবি করা সে দুটি ড্রোনের কথাই উল্লেখ করছিলেন কিনা, তা স্পষ্ট নয়। যদিও ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সোমবার ইস্ফাহানের আকাশে একটি এমকিউ-৯ ড্রোনকে ‘আটক ও ধ্বংস’ করার পৃথক দাবি করেছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বারবার বলেছেন, মাসব্যাপী অবিরাম মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ক্ষমতা কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তবে বৃহস্পতিবার নিজেদের পোস্টে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা মোট ১৫৪টি মার্কিন ও ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।