Image description

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার ধরন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সৌদি আরবের নেতাদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে ‘ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ভাবেননি তাকে আমার পশ্চাৎদেশে চুমো খেতে হবে’ ট্রাম্পের এমন মন্তব্যেও ক্ষুব্ধ হয়েছে সৌদি।

পর্যবেক্ষক সংস্থা চাথাম হাউজের সহযোগী ফেলো ও সৌদি বিশেষজ্ঞ নিল কুইলিয়াম সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বলেছেন, “হোয়াইট হাউজের প্রতি সৌদি এখন অনেক হতাশ।”

তিনি বলেছেন, ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ট্রাম্পের হামলার হুমকি, যুদ্ধের খরচ আরব দেশগুলোকে দেওয়ার প্রস্তাব এবং নেতাদের নিয়ে বাজে মন্তব্যের কারণে সৌদি হতাশ হয়েছে। যখন গত কয়েক বছরে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে অনেক বেশি বিনিয়োগ করেছে, তখন এ ধরনের কর্মকাণ্ড এবং মন্তব্য তাদের জন্য হতাশাজনকই।

তার মতে, ট্রাম্প বলেছেন যেসব দেশ হরমুজের সুবিধা গ্রহণ করে তাদেরই হরমুজ খোলার কাজ করতে হবে। যা সৌদিকে আরও বেশি উদ্বিগ্ন করবে।

এই বিশেষজ্ঞ বলেছেন, “ট্রাম্পের স্বাধীন কাজকর্মে সৌদি ব্যাপকভাবে হতাশ। পরিণতি কি হতে পারে সেটি নিয়ে ট্রাম্প যে ভাবতে চান না; আবার ক্রাউন প্রিন্সকে নিয়ে তিনি যে মন্তব্য করেছেন তার সবই সৌদিকে হতাশ করেছে।”

এই বিশেষজ্ঞ বলেছেন, প্রিন্স সালমান ও ট্রাম্পের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও ট্রাম্পকে নিয়ে সৌদির নেতৃবৃন্দ এখন উদ্বিগ্ন।

প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর বার্নার্ড হায়কেল বলেছেন, সৌদি প্রথমে ভেবেছিল যদি ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়, যুক্তরাষ্ট্র এতে যোগ দেয় তাহলে তারা অনেকটা নিরাপদ থাকবে। এছাড়া সৌদিও চেয়েছিল ইরানের মিসাইল সক্ষমতা যেন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।

কিন্তু যুদ্ধ যেভাবে চলছে আর ইরান যেভাবে নির্ভুল পাল্টা হামলা চালিয়ে নিজেদের সক্ষমতা দেখাচ্ছে— তা সৌদিকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।

বার্নার্ড হায়কাল বলেন, “সৌদিরা আসলে অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এবং তারা তাদের বিশাল ভুখণ্ড রক্ষা করতে পারবে না। যদি তাদের পানি পরিশোধনাগার এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হয়। আর আপনি প্রস্তর যুগে ফিরে যাওয়ার কথা বলছেন। এটি আসলে অসহনীয় পরিস্থিতি।”

ইরান ইতিমধ্যে তাদের সক্ষমতা দেখিয়েছে। যখন তাদের অবকাঠামোতে হামলা হয়েছে তখন হুমকি দিয়ে আরব দেশগুলোর বিভিন্ন অবকাঠামোতে তারা নির্ভুল হামলা করেছে। যারমধ্যে সৌদির তেল শোধনাগার, কুয়েত ও বাহরাইনের পানি শোধনাগার এবং কাতারের গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রের হামলা উল্লেখযোগ্য।

আরব দেশের এক কর্মকর্তা বলেছেন, গত মাসে ট্রাম্প যখন ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তখন আরব নেতারা হোয়াইট হাউজের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ট্রাম্প যেন তার হুমকি বাস্তবায়ন না করেন। কারণ ইরান এর বদলে যে পাল্টা হামলা চালাবে সেটি তারা সহ্য করতে পারবেন না।

প্রফেসর হায়কেল বলেছেন, আরব নেতারা আবারও ক্ষুব্ধ হয়েছেন যখন হোয়াইট হাউজ ইঙ্গিত দিয়েছে এ যুদ্ধের ব্যয় আরব দেশগুলো থেকে নেওয়া হবে।

সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস