ইরান যুদ্ধে লক্ষ্য অর্জনে সফলতার আভাস বারবারই দিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অপরদিকে ইরান আগ্রাসনবাদীদের লড়াই চালিয়ে যেতে বদ্ধ পরিকর। এ অবস্থায় চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বড় ধরনের ব্যর্থতার মুখে পড়েছে— বিশ্বের প্রধান ৮০টি আন্তর্জাতিক থিংকট্যাংক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গত এক মাসের প্রতিবেদন ও তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সাম্প্রতিক এক বিশেষ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও কৌশলগত অবস্থানে ইরান এখন অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রভাবশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে এই গবেষণার মূল ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ‘রমজান যুদ্ধ’ তথা ইরানের বর্তমান আত্মরক্ষা কৌশল পাঁচটি প্রধান দিক উন্মোচন করেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সামরিক প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল অনেক উন্নত হওয়ায় তারা ‘ট্যাকটিক্যাল’ বা তাৎক্ষণিক কিছু আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী ‘স্ট্র্যাটেজিক’ বা রণকৌশলগত বিজয়ের দৌড়ে তারা পিছিয়ে পড়েছে। ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া কিংবা দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার যে লক্ষ্য নিয়ে পশ্চিমা শক্তি এগিয়েছিল, তেহরান তা সফলভাবে রুখে দিয়েছে।
ইরানের এই যুদ্ধে অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে অপ্রতিসম যুদ্ধ চালিয়ে নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি দখল করতে বা পুনরায় সচল করতে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে ইরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। বর্তমানে এটি একটি ক্ষয়িষ্ণু (যুক্তরাষ্ট্রের জন্য) যুদ্ধে পরিণত হয়েছে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে সময় যত গড়াচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি অনুকূল হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন এক অবস্থানে রয়েছে যেখানে যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসতে হলে তাদের হয় একটি কৃত্রিম প্রচারণামূলক বিজয় দেখাতে হবে, নতুবা কোনো অর্জন ছাড়াই যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে হবে।
এই বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত ৮০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২২টি প্রভাবশালী সংস্থা রয়েছে, যার মধ্যে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন, কার্নেগি এন্ডোমেন্ট, সিএফআর, র্যান্ড কর্পোরেশন এবং হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের মতো নামগুলো উল্লেখযোগ্য। এছাড়া যুক্তরাজ্যের চ্যাথাম হাউস ও রুসি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এসআইপিআরআই ও ব্রুগেলসহ এশিয়ার চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ ৯টি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই পর্যালোচনায় স্থান পেয়েছে। এর বাইরে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ ও ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামসহ ১৪টি আন্তর্জাতিক সংস্থাও এই বিশ্লেষণে যুক্ত ছিল।
এই প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষজ্ঞরা একমত যে, ইরান অত্যন্ত সুকৌশলে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তারা মনে করেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগের চেয়েও বড় বিষয় হলো কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করা, আর ঠিক সেই জায়গাতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আটকে দিতে সক্ষম হয়েছে তেহরান।
শীর্ষনিউজ