Image description

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ন্যাটো সংক্রান্ত সাম্প্রতিক হুমকির পাল্টা জবাব দিয়েছেন
বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার। দ্য টেলিগ্রাফকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে তার সামরিক অভিযানে ন্যাটো জোট অংশ না নেয়ায় তিনি ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, বৃটেনের নৌবাহিনী নেই এবং তাদের বিমানবাহী রণতরীগুলো কাজ করেনি। প্রতিরক্ষা খাতে স্টারমারের আরও ব্যয় বাড়ানো উচিত কিনা- এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন,

 

আমি তাকে কী করতে হবে তা বলব না। সে যা খুশি করতে পারে। এতে কিছু যায় আসে না। স্টারমার যা চায় তা হলো ব্যয়বহুল উইন্ডমিল, যা তোমাদের জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী করে দিচ্ছে। ট্রাম্পের এমন আক্রমণের জবাবে স্টারমার সাংবাদিকদের বলেন, আমার ওপর বা অন্যদের ওপর যত চাপই থাকুক, যত কথাবার্তাই হোক, আমি বৃটেনের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ীই কাজ করব। তিনি বলেন, প্রথমত ন্যাটো হলো বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকর সামরিক জোট। এটি বহু দশক ধরে আমাদের নিরাপদ রেখেছে এবং আমরা ন্যাটোর প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয়ত যত চাপই থাকুক, যত শোরগোলই হোক, আমি যে সিদ্ধান্ত নেব তা বৃটেনের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই নেব। আর এ কারণেই আমি স্পষ্টভাবে বলেছি- এটি আমাদের যুদ্ধ নয় এবং আমরা এতে জড়িয়ে পড়ব না।

ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার প্রসঙ্গে স্টারমার বলেন, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং আমাদের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে ইউরোপের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। এ কারণেই গত বছর আমরা শীর্ষ সম্মেলন করেছি। তিনি জানান, এ বছর আরও একটি সম্মেলন হবে এবং সেখানে আগের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের পাশাপাশি আরও অগ্রসর হবো আমরা। সাংবাদিকরা যখন জিজ্ঞেস করেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বৃটেনকে সহায়তা নাও করতে পারে- ট্রাম্পের এই হুমকিকে তিনি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন। জবাবে স্টারমার বলেন, এটা গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা পরিষ্কারভাবে বলি- এই যুদ্ধে যোগ দেয়ার জন্য আমার ওপর অনেক চাপ ছিল। কিন্তু আমি আমার অবস্থান পরিবর্তন করব না।

তিনি বলেন, যত চাপই থাকুক, যত কথাবার্তাই হোক, আমি বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী এবং আমাকে আমাদের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী কাজ করতে হবে। স্টারমার আরও বলেন, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার ক্ষেত্রে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি, যেমনটা সবসময় করি। হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। শেষে তিনি বলেন, যত চাপই থাকুক, যত শোরগোলই হোক, আমার কাজ হলো বৃটেনের জাতীয় স্বার্থে মনোযোগ দেয়া এবং এটাই এখন পর্যন্ত এই সংঘাতে আমাকে পথ দেখিয়েছে।