Image description

ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের ফাঁদে এখন নিজেরাই পতিত। পরিস্থিতি এখন এমন যে, তারা না পারছে পিছু হটতে, না পারছে সহ্য করতে। যুদ্ধ পরিস্থিতির এই কশাঘাত সহ্য করতে হচ্ছে ইসরায়েলের সাধারণ মানুষদের। তাদের জীবনে এক চরম অনিশ্চয়তা নেমে এসেছে।

 

এক সময়ের প্রাণবন্ত ও ব্যস্ত শহরগুলোতে এখন যুদ্ধের সাইরেনই প্রধান শব্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে এখন আর ইসরায়েলিদের হাসি-খুশি পদচারণা দেখা যায় না, বরং তাদের এখন সময় কাটছে ছোট্ট বাংকারে জীবন সংশয়ে। বলা যায়, দেশটির বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য এই সাইরেন এখন ‘জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ’।

 

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলিদের এ চরম অবস্থা সম্পর্কে লিখেছেন সাংবাদিক নূর ওদেহ।

 

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেল আবিবসহ ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলগুলোতে বসবাসকারী প্রায় ৪৪ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ কয়েক মিলিয়ন নাগরিককে প্রতিনিয়ত বোমা আশ্রয়কেন্দ্র বা বাংকারে দৌড়াতে হচ্ছে।

সংঘাতের আঁচ পৌঁছেছে দক্ষিণের আশদোদ এবং আশকেলন শহরেও। বারবার সাইরেন বাজার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। স্কুলগামী শিশুরা ঘরে বসে অনলাইনে শিক্ষা নিতে বাধ্য হচ্ছে এবং দেশটির প্রধান বিমানবন্দরগুলো তাদের স্বাভাবিক ক্ষমতার খুব সামান্য অংশ ব্যবহার করে কার্যক্রম সচল রেখেছে।

 

এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েল সরকারের চোখ এখন যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনার দিকে। আন্তর্জাতিক মহলের যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনার প্রতিটি বার্তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েল। তবে দৃশ্যত তারা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতিই নিচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন আলজাজিরার সাংবাদিক।

 

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়িয়েছে। কেবল সামরিক ঘাঁটি নয়, ইরানের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে বর্বর হামলা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে ইরানের বড় বড় ইস্পাত কারখানা এবং ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইরান যেন সহজে অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে ঘুরে দাঁড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই ইসরায়েলিদের প্রধান চাওয়া।