Image description

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্থল অভিযানের আলোচনার মধ্যে রণকৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালির অমোঘ বাস্তবতা—‘আর্চ ডিফেন্স’।

 

পারস্য উপসাগরের এ সংকীর্ণ চোক পয়েন্ট ঘিরে সাতটি কৌশলগত দ্বীপজুড়ে প্রাকৃতিকভাবেই এমন এক বহুস্তরীয় ডিফেন্সিভ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে, যা সামরিক পরিভাষায় পুরো প্রণালিকে একটি ‘ওভারল্যাপিং কিলিং জোন’-এ রূপান্তর করে। এ জটিল সমীকরণের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, ওয়াশিংটন হয়তো একটি প্রথাগত অ্যাম্ফিবিয়াস ল্যান্ডিং বা স্থল অভিযানের দিকে এগোচ্ছে।

ইরানের আর্চ ডিফেন্স কী

 

হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা সাতটি দ্বীপের। এগুলো হলো আবু মুসা, গ্রেটার তুনব, লেসার তুনব, হেঙ্গাম, কেশম, লারাক ও হরমুজ। চীনের ঝুহাইভিত্তিক সান ইয়াত-সেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের ভাষায়, এ দ্বীপগুলো একত্রে ইরানের ‘আর্চ ডিফেন্স’ বা খিলানসদৃশ প্রতিরক্ষাবলয় তৈরি করে, যা হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত একটি অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

 

২০২২ সালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে ইরানি গবেষক এনায়াতুল্লাহ ইয়াজদানী ও চীনা গবেষক মা ইয়ানঝে উল্লেখ করেন, এ দ্বীপগুলোকে একটি কাল্পনিক রেখায় যুক্ত করলে বোঝা যায় হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কতটা প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে আবু মুসা, গ্রেটার তুনব ও লেসার তুনব—এ তিনটি ছোট দ্বীপই প্রণালি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালিতে এ প্রতিরক্ষা কাঠামোকে দুই স্তরে বোঝা যায়। পশ্চিমাংশে আবু মুসা, গ্রেটার তুনব ও লেসার তুনব দ্বীপগুলো একটি সংকীর্ণ ‘চোক পয়েন্ট’ তৈরি করে, যেখানে বড় জাহাজগুলো বাধ্য হয়ে নির্দিষ্ট রুট ধরে চলাচল করে এবং সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। অন্যদিকে পূর্বাংশে লারাক, হরমুজ, কেশম ও হেঙ্গাম দ্বীপগুলো প্রবেশ নিয়ন্ত্রণবলয় তৈরি করে, যেখান থেকে প্রণালিতে প্রবেশ বা বের হওয়ার পথ নজরদারি ও বাধাগ্রস্ত করা সম্ভব। এ দুই স্তরের সমন্বয়ই ইরানের ‘আর্চ ডিফেন্স’কে আরো কার্যকর করে তোলে।

পারস্য উপসাগরের অগভীর পানির কারণে বড় যুদ্ধজাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলো বাধ্য হয়ে এ দ্বীপগুলোর খুব কাছ দিয়ে চলাচল করে। ফলে সেগুলো সহজেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এ দ্বীপগুলো থেকে দ্রুতগামী নৌকা, মাইন পেতে রাখা ইউনিট কিংবা ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালাতে পারে, যা শত্রুপক্ষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।

এ সামরিক কাঠামোর অর্থনৈতিক প্রভাবও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক দিনা এসফানদিয়ারি বলেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিজেদের কৌশল এতটা সফল হবে এটা ইরান নিজেও কিছুটা অবাক হয়ে দেখছে। তুলনামূলকভাবে কম খরচে এবং সহজভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে কার্যত জিম্মি করে রাখার সক্ষমতা তারা পেয়েছে। এ যুদ্ধ থেকে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছে—এ নতুন লিভারেজ তারা ভবিষ্যতেও ব্যবহার করবে এবং এ সক্ষমতাকে অর্থনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর বিষয়টিও এখন তাদের কৌশলের অংশ হয়ে উঠছে।

দ্বীপগুলো যেন ‘ডুবানো সম্ভব নয় এমন বিমানবাহী রণতরী’

ইরানি কর্মকর্তারা এসব দ্বীপকে প্রায়ই ‘স্থির ও ডুবানো যায় না এমন বিমানবাহী রণতরী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কারণ সমুদ্রে ভাসমান বিমানবাহী জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া সম্ভব হলেও স্থলভাগে থাকা দ্বীপকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা অনেক বেশি কঠিন।

গত বছর আইআরজিসি জানিয়েছিল, তারা আবু মুসা, গ্রেটার তুনব ও লেসার তুনব দ্বীপে তাদের উপস্থিতি জোরদার করছে। সে সময় আইআরজিসির নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি বলেছিলেন, ‘আমাদের কৌশলগত পরিকল্পনা হলো এ দ্বীপগুলোকে অস্ত্রে সজ্জিত ও অপারেশনাল করা। আমরা শত্রুর ঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ ও সম্পদে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখি।’ সাম্প্রতিক এক অভিযানে তাংসিরি নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েল ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল ও সীমাবদ্ধতা

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ আর্চ ডিফেন্স কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলেছে। এ দ্বীপগুলো কার্যত ‘অডুবনীয় ঘাঁটি’ হওয়ায় যদি যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপে হামলা চালাতে চায়, তাহলে আগে এসব দ্বীপে থাকা ইরানি সামরিক অবস্থান নিষ্ক্রিয় করতে হবে। কারণ এসব দ্বীপ থেকেই হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বা মেরিন ইউনিটগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ডের জয়েন্ট ইন্টেলিজেন্স সেন্টারের সাবেক পরিচালক ও সামরিক বিশ্লেষক কার্ল শুস্টার বলেন, এ দ্বীপগুলো এমনভাবে অবস্থান করছে যে উপসাগরে ঢোকা বা বের হওয়া যেকোনো জাহাজ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ দ্বীপগুলো দখল করতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। দ্বীপগুলোতে সেনা নামানোর দুটি পথ রয়েছে—আকাশপথ ও সমুদ্রপথ।

সমুদ্রপথে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোতে থাকা ল্যান্ডিং ক্রাফট এয়ার কুশন সৈন্য ও ভারী সরঞ্জাম সৈকতে নামাতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো এ জাহাজগুলোকে উপসাগরে ঢুকতে হলে আগে হরমুজ, লারাক, কেশম ও হেঙ্গাম দ্বীপের কাছ দিয়ে যেতে হবে, যেখানে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়।

সিএনএনের সামরিক বিশ্লেষক সেড্রিক লেইটন বলেন, প্রণালির পূর্ব প্রান্তে থাকা লারাক দ্বীপটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র বা ছোট আক্রমণ নৌকা ব্যবহার করে ইরান পুরো প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিতে পারে।

আকাশপথে হামলার ক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনীর কাছে রয়েছে সিভি-২২ অসপ্রে বিমান ও হেলিকপ্টার, যেগুলো উল্লম্বভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে। তবে এগুলো তুলনামূলক ধীরগতির হওয়ায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঝুঁকিতে থাকে। অন্যদিকে, ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সেনারা প্যারাশুট দিয়ে নামতে পারলেও তারা ভারী সরঞ্জাম সঙ্গে নিতে পারে না।

সব মিলিয়ে এ দ্বীপগুলোতে সামরিক অভিযান দুইদিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সফল হলে এর বড় কৌশলগত সুবিধা পাওয়া যাবে। যেমন দ্বীপে রাডার বসিয়ে প্রণালির ওপর নজরদারি করা এবং ইরানের ড্রোন হামলার ঘাঁটি ধ্বংস করা সম্ভব হবে।

তবে শুধু দখল করলেই হবে না। শুস্টারের মতে, এসব দ্বীপে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে অন্তত ১ হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার সেনা স্থায়ীভাবে মোতায়েন রাখতে হবে। আর তখনই শুরু হবে নতুন ঝুঁকি। নিউইয়র্কভিত্তিক গবেষণা সংস্থা দ্য সুফান সেন্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এসব দ্বীপ দখল করে, তাহলে তাদের প্রতিনিয়ত ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে আসা ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও আর্টিলারি হামলার মুখে পড়তে হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

আর্চ ডিফেন্স কেন প্রায় অভেদ্য

ইরানের ‘আর্চ ডিফেন্স’ কৌশলকে কার্যকর ও কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরার মূল কারণ এর ভৌগোলিক বিন্যাস ও বহুস্তরীয় আঘাত হানার সক্ষমতা। পারস্য উপসাগরের এ সাতটি দ্বীপ এমনভাবে ছড়িয়ে রয়েছে যে এগুলোকে একটি খিলান হিসেবে কল্পনা করলে পুরো হরমুজ প্রণালির ওপর একটি ওভারল্যাপিং আক্রমণ বলয় তৈরি হয়। অর্থাৎ কোনো একটি জাহাজ বা নৌবহর এক দ্বীপের সীমা পেরোলেও তা সঙ্গে সঙ্গে অন্য দ্বীপের নজরদারি ও আক্রমণের আওতায় চলে আসে। যাকে সামরিক ভাষায় বলা হয় ‘ওভারল্যাপিং কিল জোন’। এটি ইরানকে একই লক্ষ্যবস্তুর ওপর একাধিক দিক থেকে সমন্বিত আঘাত হানার সুযোগ দেয়, যা প্রতিরোধ করা অত্যন্ত কঠিন।

ইরানের সুবিধা হলো তাদের পুরো প্রণালি দখল করে রাখতে হয় না; বরং শুধু এতটা সক্ষমতা দেখাতে হয় যাতে প্রতিপক্ষ নিরাপদে চলাচল করতে না পারে। এটাকে বলা হয় সি ডিনায়াল ট্যাকটিকস। যেখানে নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং শত্রুপক্ষের চলাচল আটক দেয়াই প্রধান অস্ত্র। যেক্ষেত্রে তুলনামূলক কম ব্যয়ে তারা একটি উচ্চমূল্যের সামুদ্রিক করিডোরকে ঝুঁকির মধ্যে রাখতে পারে। এছাড়া আইআরজিসির ব্যবহৃত দ্রুতগামী ছোট নৌকা, মাইন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র—এ আর্চ ডিফেন্সকে আরো কার্যকর করে তোলে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ প্রতিরক্ষা কাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে হলে প্রতিপক্ষকে একযোগে একাধিক দ্বীপে হামলা চালাতে হবে, পাশাপাশি ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকেও আসা আক্রমণ ঠেকাতে হবে। ইরানের ‘আর্চ ডিফেন্স’ কাঠামোকে সহজে নিষ্ক্রিয় করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হওয়ার প্রধান কারণ এর বহুস্তরীয় ও বিকেন্দ্রীভূত প্রকৃতি। এ প্রতিরক্ষাবলয় কোনো একক ঘাঁটি বা লক্ষ্যবস্তুর ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং একাধিক দ্বীপজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অবস্থানগুলো একে অপরকে সমর্থন করে। ফলে একটি বা দুটি দ্বীপে আঘাত হানলেও পুরো কাঠামো ভেঙে পড়ে না, বরং বাকি অংশগুলো কার্যকর থাকে এবং আক্রমণ চালিয়ে যেতে পারে।

এ আর্চ ডিফেন্সকে সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে একই সময় একাধিক দ্বীপে সমন্বিত হামলা চালাতে হবে। কিন্তু এটি বাস্তবে অত্যন্ত জটিল, কারণ প্রতিটি দ্বীপ আলাদা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে এবং এগুলো ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন হলেও কার্যত একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকেও ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আর্টিলারি সমর্থন পাওয়া যায়, যা আক্রমণকারী বাহিনীকে দ্বিমুখী চাপের মধ্যে ফেলে।

আরেকটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো সময় ও লজিস্টিকস। দ্বীপগুলো দখল করতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রকে শুধু আঘাত হানলেই হবে না, বরং সেগুলো ধরে রাখতে হবে। এর জন্য বিপুলসংখ্যক সেনা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সরবরাহ লাইন প্রয়োজন, যা শত্রু পরিবেশে বজায় রাখা কঠিন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিজেই একটি সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জলপথ হওয়ায় সেখানে বড় নৌবহর নিরাপদে পরিচালনা করাও চ্যালেঞ্জিং।

রাজনৈতিক জটিলতা

তবে দ্বীপ দখলের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক জটিলতা রয়েছে। ১৯৭১ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত স্বাধীন হওয়ার সময় ইরান এ দ্বীপগুলো দখল করে নেয়। এর পর থেকে ইউএই এ দখলকে অবৈধ বলে জাতিসংঘে অভিযোগ জানিয়ে আসছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ইরান দাবি করছে, ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিকভাবে এ দ্বীপগুলোর ওপর তাদের অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে ইউএই প্রয়োজনে বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে নেয়ার কথাও বলেছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইউএইর দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

এখানেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তৈরি হয়েছে এক বড় কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব। শুস্টারের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপগুলো দখলের পর নতুন কোনো ইরানি সরকারের কাছে ফিরিয়ে দেয়, তাহলে ইউএই অসন্তুষ্ট হতে পারে। আবার যদি ইউএইর হাতে তুলে দেয়, তাহলে নতুন ইরানি সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। অর্থাৎ সামরিক দিক থেকে দ্বীপ দখল সম্ভব হলেও এর রাজনৈতিক পরিণতি অত্যন্ত জটিল। এ দ্বন্দ্ব ভবিষ্যতে নতুন করে সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।

যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপে সরাসরি হামলা চালানো হলে ইরানের তেল রফতানি অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা পুনর্গঠনে বছর লেগে যেতে পারে। এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়বে। এরই মধ্যে কাতারের গ্যাস স্থাপনায় হামলার কারণে ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে। ফলে জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংসের ঝুঁকি কতটা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে তা স্পষ্ট।

দ্বীপ দখল করলে প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হবে। খার্গে হামলা করলে ইরানের অর্থনীতি দুর্বল হবে, কিন্তু বৈশ্বিক বাজার অস্থির হয়ে উঠবে। শুস্টারের ভাষায়, আধুনিক যুদ্ধ পরিকল্পনা এতটাই জটিল যে কোনো সিদ্ধান্তই নিখুঁত নয়। প্রতিটি বিকল্পেরই নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে।