Image description

বাবার সঙ্গে দীর্ঘ ১৮ মাসের আইনি লড়াই শেষে অবশেষে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের (ইউথানেশিয়া) অধিকার পেলেন ২৫ বছর বয়সি স্প্যানিশ তরুণী নোয়েলিয়া কাস্তিলো।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বার্সেলোনায় চিকিৎসকদের সহায়তায় তিনি স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করেন। বিবিসির খবর জানাচ্ছে, স্পেনে স্বেচ্ছামৃত্যু আইন কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম কোনো ব্যক্তির এ সংক্রান্ত মামলা আদালত পর্যন্ত গড়াল।

বিবিসি জানায়, বার্সেলোনার বাসিন্দা নোয়েলিয়া ২০২২ সালে আত্মহত্যার চেষ্টা করে গুরুতর আহত এবং স্থায়ীভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারাপ্লেজিক) হয়ে পড়েন। শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার অবসান ঘটাতে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি কাতালান সরকারের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করেন এবং অনুমতিও পান।

তবে প্রক্রিয়াটি শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে তার বাবা একটি রক্ষণশীল গোষ্ঠীর সহায়তায় আইনি বাধা তৈরি করেন। তার দাবি ছিল, নোয়েলিয়া পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারের মতো মানসিক রোগে ভুগছেন এবং এই অবস্থায় তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি যুক্তি দেন, একজন অসুস্থ ও দুর্বল নাগরিকের জীবন রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব।

এই আপত্তি নিয়ে দীর্ঘ দেড় বছর আইনি লড়াই চলে। শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ইসিএইচআর) নোয়েলিয়ার পক্ষে রায় দেয়। আদালত জানায়, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হিসেবে তার নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

মৃত্যুর কয়েক দিন আগে স্প্যানিশ টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরেন নোয়েলিয়া। সেখানে তিনি জানান, শৈশবে কেয়ার হোমে কাটানো দিনগুলো এবং অতীতে একাধিকবার যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার দুঃসহ স্মৃতি তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফেরে। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘পরিবারের অন্য কারোর ভালো থাকা বা সামাজিক অবস্থানের চেয়ে আমার নিজের শান্তি বড়। আমি কেবল এই দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে শান্তিতে বিদায় নিতে চাই।’

তার মা এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না হলেও শেষ পর্যন্ত মেয়ের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়েছেন।

২০২১ সালে স্পেনে স্বেচ্ছামৃত্যুকে বৈধতা দেওয়া হয়। সরকারি তথ্যমতে, কেবল ২০২৪ সালেই দেশটিতে ৪২৬ জন ব্যক্তিকে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে নোয়েলিয়ার মামলাটি বাবার সঙ্গে আইনি লড়াই ও এ নিয়ে পারিবারিক দ্বন্ধের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শীর্ষনিউজ