Image description

মানুষের জীবনে এমন কিছু গল্প থাকে, যা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের কাহিনি নয়, বরং একটি সমাজকে অনুপ্রাণিত করার শক্তি রাখে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) মেধাবী ছাত্রী সাবিকুন নাহার উর্মির জীবনগল্প তেমনই এক অনন্য উদাহরণ। মাতৃত্বের কঠিন সময়কে জয় করে ৪৬তম বিসিএসে মৎস্য ক্যাডারে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছেন তিনি।

জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল সময় মাতৃত্বকালেই উর্মি বিসিএসের প্রস্তুতি শুরু করেন। সন্তানসম্ভবা হবার পর থেকেই তিনি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা চালিয়ে যান। শারীরিক অসুস্থতা, ক্লান্তি এবং নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়াননি। তার অদম্য পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের ফলেই তিনি প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

উর্মি বলেন, প্রিলিমিনারি পাস করার পর শুরু হয় রিটেন পরীক্ষার প্রস্তুতি, যা বিসিএসের অন্যতম কঠিন ধাপ। এ সময় আমার জীবনে যুক্ত হয় নতুন দায়িত্ব মাতৃত্ব। ছোট্ট শিশুর যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। রাতের পর রাত নির্ঘুম থেকে শিশুর দেখাশোনা এবং ফাঁকে ফাঁকে পড়াশোনা এভাবেই এগিয়েছে আমার প্রস্তুতি।

রিটেন পরীক্ষার সময় চ্যালেঞ্জ আরও বেড়ে যায়। পরীক্ষার হলে বসে অন্যরা যখন লেখায় মনোযোগী, তখন একজন মা হিসেবে উর্মির মনে ঘুরপাক খেয়েছে সন্তানের চিন্তা ‘বাচ্চাটা ঠিক আছে তো?’ নির্ঘুম রাত, শিশুর অসুস্থতা, ক্লান্ত শরীর সবকিছুর মাঝেও তিনি হাল ছাড়েননি। তিনি বলেন, প্রতিটি শব্দ আমি লিখেছি নিজের স্বপ্নের জন্য, আর প্রতিটি কষ্ট সহ্য করেছি সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে।

অবশেষে তার কঠোর পরিশ্রম ফল দেয়। তিনি ৪৬তম বিসিএসের রিটেন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং পরবর্তীতে ভাইভা ধাপও সফলভাবে সম্পন্ন করেন। সব বাধা পেরিয়ে তিনি মৎস্য ক্যাডারে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন। উর্মির বলেন, এ সাফল্য শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি সমাজের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। বিশেষ করে নারীদের জন্য এটি একটি অনুপ্রেরণা মাতৃত্ব বা পারিবারিক দায়িত্ব কখনোই স্বপ্নপূরণের পথে বাধা নয়।

তিনি আরও বলেন, সাফল্য হঠাৎ করে আসে না; এর পেছনে থাকে নির্ঘুম রাত, ত্যাগ এবং অদম্য পরিশ্রম। ব্যর্থতা সাময়িক, কিন্তু চেষ্টা অব্যাহত থাকলে সাফল্য একদিন আসবেই।