দুর্নীতির অভিযোগে ১৭ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও রাজনীতিবিদ ইমরান খানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে মুখ খুলেছেন দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম খান। গত জানুয়ারির পর এই প্রথম গত সপ্তাহে প্রায় ২৮ মিনিটের একটি টেলিফোন আলাপে বাবার সাথে কথা বলেন তারা। সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইক অ্যাথারটনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারা জানিয়েছেন, শারীরিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ইমরান খান মানসিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কাসিম খান জানিয়েছেন, তার বাবার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে কমে গেছে। তবে ইমরান নিজে এ বিষয়ে চিন্তিত নন। কাসিম বলেন, ‘আমরা তার শরীর নিয়ে জানতে চাইলে তিনি হেসেই উড়িয়ে দেন। শুধু বলেছেন, তিনি ঠিক আছেন এবং দৃষ্টিশক্তি আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতির দিকে। এটিই আমাদের কাছে ইতিবাচক মনে হয়েছে।’
ইমরান খানের ছেলেরা জানিয়েছেন, বর্তমান কর্তৃপক্ষ ইমরানকে মানসিকভাবে দুর্বল করতে নানা কৌশল অবলম্বন অনুসরণ করছে। তার সেলে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা কিংবা নতুন বই পড়তে না দেওয়াসহ অনেক কিছুই করছে। তবে কাসিম খানের মতে, এই পরিস্থিতি ইমরানকে আরও আধ্যাত্মিক এবং মানসিকভাবে দৃঢ় করেছে।
কাসিম বলেন, ‘তিনি এখন নিয়মিত মেডিটেশন বা ধ্যান করেন। প্রথম কয়েকদিন জেলজীবন খুব কঠিন ছিল, কিন্তু এখন তিনি ধ্যানের মাধ্যমে নিজের ভেতরে ডুব দিতে শিখেছেন। এই নির্যাতনের কৌশলগুলোই উল্টো তাকে সেখানে টিকে থাকার শক্তি জুগিয়েছে।’
বড় ছেলে সুলাইমান খান জানিয়েছেন, তার বাবা জনসম্মুখেই বলে দিয়েছেন যে তিনি নিজের আদর্শ বিসর্জন দিয়ে মুক্তি পাওয়ার চেয়ে জেলেই প্রাণ দিতে পছন্দ করবেন। সুলাইমান স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ছোটবেলায় আমি চাইতাম বাবা রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে ক্রিকেট বিশ্লেষক হোন। কিন্তু বড় হয়ে বুঝেছি, বড় কোনো প্রভাব বা ঝুঁকি ছাড়া তিনি সুখী হতে পারেন না।’
ইমরান খান নিজের কষ্টের চেয়ে তার স্ত্রী বুশরা বিবির অবস্থা নিয়ে বেশি চিন্তিত। কারণ বুশরা বিবিও রয়েছেন কারাগারে। ইমরান খান তার ছেলেদের বলেছেন, ‘কর্তৃপক্ষ জানে তারা আমাকে ভাঙতে পারবে না। আমি সবকিছু সামলাতে পারি, কিন্তু যখন পরিবারের ওপর আঘাত আসে, তখন এটি কঠিন হয়ে পড়ে।’