Image description

আইআরজিসি বা ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, ইরানের কোনো অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে জবাব হবে ধ্বংসাত্মক। চোখের বদলে চোখ নয়, চোখের বদলে মাথা নেওয়া হবে এবং শত্রুদের পারস্য উপসাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হবে ।

 

রেজায়ি বর্তমানে ইরানের নীতি-নির্ধারণি পরিষদের সদস্য। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি হুঁশিয়ারি দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন।

 

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলার হুমকি দেওয়ার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, ‘তারা যদি ভুল করে তাহলে আমরা পারস্য উপসাগরে তাদের ডুবিয়ে দেব, তাদের অচল করে দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সব ক্ষতিপূরণ না নেওয়া পর্যন্ত চলমান যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি ঘোষণা করেছেন। ইরানের ওপর সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ইরানের বিষয়ে মার্কিন সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না এবং আর কখনও ইরানে হামলা চালাবে না—এই মর্মে আন্তর্জাতিক আইনি নিশ্চয়তা আদায় করাও যুদ্ধ বন্ধের অন্যতম শর্ত বলে রেজায়ি উল্লেখ করেছেন।

 

মোহসেন রেজায়ি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তাকে বলব যে, যদি আঘাত কর তাহলে চোখের বদলে চোখ নয়, চোখের বদলে মাথা নেওয়া হবে। শত্রুদের পারস্য উপসাগরে ডুবিয়ে দেওয়া হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘তাদের জানা উচিত যে, মার্কিনিদের রক্ষার সময়সীমা শেষ হয়ে আসছে। এই অচলাবস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে মুক্ত করার জন্য তাদের বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের হাতে সময় খুব কমই রয়েছে।’

 

রেজায়ি ইরানকে ৫ টুকরো করার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়াসহ ইরানি জনগণের বর্তমান ঐক্য ও বিস্ময়কর প্রতিরোধকে ‘তৃতীয় বিপ্লব’ বলে অভিহিত করেছেন।

 

শিগগিরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মারাত্মক বিভক্তি এবং মতবিরোধ দেখা দেবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে নিজের অনুসারী করেছেন এবং প্রথমদিকে তাদের সামরিক পরিকল্পনা একই ধরনের ছিল না। রেজায়ির বক্তব্য অনুযায়ী মার্কিন সরকার প্রথমে সীমিত মাত্রার ও পর্যায়ক্রমিক যুদ্ধে জড়াতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর পরিকল্পনাকেই বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়, ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়েছে ও সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। অন্যথায় ট্রাম্প যুদ্ধের ১২ দিনের মাথায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করত।