ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে সামরিক ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত ২০০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকা) চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। যুদ্ধের কারণে ক্ষয় হওয়া অস্ত্র ও সরঞ্জাম পুনরায় মজুদ করতেই এই বিপুল অর্থের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্ব এখন খুবই অস্থির। আমাদের বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ দরকার। আমাদের কাছে এখনো অনেক আছে, কিন্তু ইউক্রেনসহ অন্যান্য জায়গায় সহায়তা দেওয়ায় মজুদ কমে গেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও এই বাড়তি অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘খারাপ শক্তিকে মোকাবিলা করতে অর্থ লাগে।’
পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১.৩ বিলিয়ন ডলার। শনিবার এই সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করবে।
এই অতিরিক্ত বাজেটের আবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রের চলতি অর্থবছরের অনুমোদিত ৮৩৮.৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটের বাইরে। ফলে কংগ্রেসে এটি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে।
এদিকে, যুদ্ধের মধ্যে একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশে মিশন শেষে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং পাইলট স্থিতিশীল আছেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের মূল্য প্রায় ৬২ থেকে ৭৭ মিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং অর্থনীতিতেও এর বড় প্রভাব পড়ছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাম্প্রতিক বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
তবে এই বিপুল সামরিক ব্যয়ের প্রস্তাব সহজে পাস হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ নাগরিক ইরান যুদ্ধকে সমর্থন করছেন না। এছাড়া কংগ্রেসের কিছু সদস্য অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ শুরু করার আগে তাদের সঙ্গে যথেষ্ট পরামর্শ করেনি।
তবুও বিশ্লেষকদের ধারণা, রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে শেষ পর্যন্ত এই অর্থ অনুমোদন পেতে পারে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং অর্থনৈতিক চাপ বাড়লে এর রাজনৈতিক মূল্য চড়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, পেন্টাগন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। যদিও আপাতত অতিরিক্ত স্থলবাহিনী মোতায়েনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে প্রয়োজন হলে সব বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।