Image description

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক কমিশনের (ইউএসসিআইআরএফ) এক প্রতিবেদনে রিপোর্টে নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘন ও অধিকার খর্বের দায়ে ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (আরএসএস) ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং’ বা ‘র’ কেও। তবে ইউএসসিআইআরএফের এই রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে ভারত।

ডয়চে ভেলের খবর জানায়, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘এই রিপোর্টে ভারতের একটি বিকৃত ও সিলেকটিভ চিত্র দেখানো হয়েছে।’

রিপোর্টের প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা এই রিপোর্ট দেখেছি। এটা পুরোপুরি পক্ষপাতদুষ্ট এবং আমরা তা খারিজ করছি। কমিশন যাদের ওপর ভরসা করে রিপোর্ট দিয়েছে, তারা বাস্তব তথ্য দেয়নি, বরং মতাদর্শগত বিভেদকে গুরুত্ব দিয়েছে। তাই এই রিপোর্ট ও সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’

জয়সওয়াল বলেছেন, ‘ভারতের এই সিলেকটিভ সমালোচনা না করে তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু মন্দিরের ওপর আক্রমণ, ভারতীয়দের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ও তাদের ওপর আক্রমণের ঘটনা নিয়ে আলোকপাত করে।’

সম্প্রতি ইউএসসিআইআরএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার হাল ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও তাদের উপাসনালয় হামলার শিকার হচ্ছে। এ জন্য ভারতের সরকারই দায়ী। বিভিন্ন রাজ্যে জবরদস্তি ধর্মান্তকরণ ঠেকাতে কঠোর আইন তৈরি করা হচ্ছে। বহু নাগরিককে বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হয়েছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও নাগরিকদের বেআইনিভাবে বহিষ্কার করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে নজরদারির নামে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে।

পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গে এতে বলা হয়েছে, এই ঘটনা ভারতে মুসলিমবিরোধী মনোভাব আরও তীব্র করে তুলেছে। উত্তর প্রদেশে হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা কাশ্মীর হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলে এক মুসলিম রেস্তোরাঁ কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে। ভারত সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ আখ্যা দিয়ে তাদের বহিষ্কারকে ন্যায্যতা দিতে এই হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি ব্যবহার করেছে।

প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, ভারত সরকার ১৫ খ্রিস্টানসহ প্রায় ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আটক করে আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিয়ে গেছে। তাদের লাইফ জ্যাকেট ছাড়া বার্মিজ উপকূলের দিকে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

ওয়াকফ সংশোধনী বিলেরও সমালোচনা করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এই আইনে মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের মতো মুসলিম-মালিকানাধীন সম্পত্তি পরিচালনার বোর্ডে অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত করা করেছে।

ধর্মান্তরবিরোধী কঠোর আইন আনার জন্য মহারাষ্ট্র, আসাম, উত্তরাখণ্ড, রাজস্থান ও ছত্তিশগড় সরকারেরও সমালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মহারাষ্ট্র ধর্মান্তর রোধে কঠোর আইন আনার পরিকল্পনা করেছে, ছত্তিশগড় বিশ্বাস নিরাময় সভাগুলো বন্ধে নতুন আইনের ঘোষণা দিয়েছে। আসাম তথাকথিত লাভ জিহাদ রোধে আইন করার কথা জানিয়েছে।’

এ ছাড়া ২০২০ সালের সিএএ বিরোধী বিক্ষোভে জড়িত উমর খালিদ, শারজিল ইমামসহ আরও কয়েকজনের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তারা পাঁচ বছর ধরে কোনো বিচার ছাড়াই কারাগারে আটক রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও তাদের পক্ষে সোচ্চার ব্যক্তিদের কারাবন্দি করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে।