ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি বোমা হামলা শুরুর পর থেকে গাজা যুদ্ধবিরতি তীব্র চাপের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শান্তির বোর্ড’-এর দূতরা কায়রোতে হামাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনটি সূত্রের বরাতে সোমবার (১৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এটিই হামাস ও বোর্ডের মধ্যে প্রথম প্রকাশ্যে বৈঠক। ট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত এই বোর্ড যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা তত্ত্বাবধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত।
বৈঠকে হামাসের প্রতিনিধিরা বোর্ডকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যুদ্ধের সময় গাজার ওপর আরোপিত নতুন বিধিনিষেধ ইসরায়েল বহাল রাখলে তারা গাজা যুদ্ধবিরতির আগের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে পারে।
বৈঠকের পরই রোববার ইসরায়েল ঘোষণা দিয়েছে, এই সপ্তাহের শেষ দিকে রাফাহ ক্রসিং পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। গাজা ও মিশরের মধ্যে পথচারীদের জন্য এটিই একমাত্র ক্রসিং, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বন্ধ ছিল। একটি সূত্র জানিয়েছে, এই ঘোষণা সরাসরি হামাস-বোর্ড বৈঠকের ফলাফল।
এদিকে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সম্পূর্ণ স্থগিত রয়েছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, হামাসের সঙ্গে মিশরের কায়রোতে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ‘শান্তি বোর্ড’র প্রতিনিধি ছিলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভের আমেরিকান সহকারী আরিয়েহ লাইটস্টোন। তবে অন্য দুটি সূত্রের মতে, বৈঠকগুলোর এজেন্ডায় লাইটস্টোন থাকলেও, সত্যিই তিনি উপস্থিত ছিলেন কিনা, তারা নিশ্চিত নন। সূত্রগুলো নাম না প্রকাশ করার শর্তে এসব তথ্য জানিয়েছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লাইটস্টোন গত কয়েকদিন ধরে কায়রোতে গাজা-সংক্রান্ত বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। তবে তিনি হামাসের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন কিনা তা নিশ্চিত করেননি। মার্কিন কর্মকর্তা আরও জানান, গাজার জন্য ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং এই সপ্তাহে আরও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
রাফাহ ক্রসিং পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত কায়রোর বৈঠকের ফল কিনা—এই প্রশ্নে ইসরায়েল সরকার কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। হামাসও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।