যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের রিলিজিয়াস লিবার্টিস কমিশনের পরামর্শক বোর্ডে দায়িত্ব পালন করছিলেন মুসলিম নারী সামিরা মুনশি। তবে হোয়াইট হাউসের কমিশন থেকে ক্যাথলিক কমিশনার ক্যারি প্রেজিয়ান-বোলারকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিনি এ পদ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর পদত্যাগপত্রে এমনটাই বলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পদত্যাগপত্রটি দেখতে পেয়েছে মিডল ইস্ট আই।
রিলিজিয়াস লিবার্টিস কমিশনে সব সদস্যকে নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট। গতকাল প্রেজিয়ান-বোলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে বলেন, প্রেসিডেন্ট তাঁকে বরখাস্ত করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, গাজায় ইসরায়েলের সংঘটিত গণহত্যা এবং জায়নবাদবিরোধী অবস্থানের কারণে তাঁকে সরানো হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে কমিশনের এক বৈঠকে তীব্র বাগ্বিতণ্ডার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এই বরখাস্তের ঘটনা ঘটল। ওই ভিডিওতে প্রেজিয়ান-বোলার জোরালোভাবে বলেছিলেন, ক্যাথলিক বিশ্বাস ও জায়নবাদ একসঙ্গে চলতে পারে না।
মার্কিন বিচার বিভাগের অধীনে কমিশনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মিডল ইস্ট আই কর্তৃপক্ষ হোয়াইট হাউস এবং বিচার বিভাগের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেছিল। হোয়াইট হাউস এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার সময় পর্যন্ত কোনো সাড়া দেয়নি।
আর বিচার বিভাগ শুধু মিডল ইস্ট আইকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে টেক্সাসের লেফটেন্যান্ট গভর্নর ড্যান প্যাট্রিকের দেওয়া বক্তব্যটি দেখতে বলেছে। এই ড্যান প্যাট্রিক হলেন রিলিজিয়াস লিবার্টিস কমিশনের চেয়ারম্যান।
১১ ফেব্রুয়ারি এক্সে দেওয়া পোস্টে প্যাট্রিক লিখেছিলেন, ‘কমিশনের কোনো সদস্যের কোনো ইস্যুতে নিজেদের ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক এজেন্ডা অনুসারে শুনানি পরিচালনার অধিকার নেই। সেই সময় তিনি ঘোষণা দেন, প্রেজিয়ান-বোলারকে প্যানেল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
প্রেজিয়ান-বোলার তখন প্যাট্রিকের ওই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, তাঁকে বরখাস্ত করার অধিকার শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টেরই আছে।
সামিরা তাঁর পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্রে আমরা আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী স্বাধীনভাবে আচরণ করতে না পারি এবং অন্যদের অসন্তোষের মধ্যেও তা বজায় রাখতে না পারি, তবে আমরা কোন দেশে স্বাধীনভাবে তা করতে পারব?’
সামিরা কমিশনের সদস্যদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন হওয়া এবং ধর্মকে উপহাস করার মতো প্রবণতা থাকার অভিযোগও করেন।
ট্রাম্পকেন্দ্রিক এ প্রকল্পটি ২০২৫ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সাধারণত বছরে এক বা দুবার সরাসরি প্রেসিডেন্টকে রিপোর্ট দেয় এ কমিশন। এ কমিশনের উচ্চপর্যায়ে কোনো মুসলিম নিয়োগ পাননি। এ প্রকল্পে জড়িত তিনজন মুসলিমকে শুধু পরামর্শমূলক ভূমিকা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন সামিরা মুনশি, রিলিজিয়াস ফ্রিডম ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইসমাইল রয়ের এবং প্রখ্যাত পণ্ডিত শেখ হামজা ইউসুফ।
সামিরা মুনশি লিখেছেন, ‘আমি যখন ফিলিস্তিন–সম্পর্কিত সাক্ষ্য দিয়েছিলাম, এর পর থেকে প্রতিটি শুনানির আগে আমাকে আর সাক্ষীর তালিকায় রাখা হয় না।’
সামিরা মুনশি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি যখন কমিশনের কাছে সাক্ষ্য দেন, তখন থেকেই তাঁকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের চালানো হত্যাকাণ্ড নিয়ে স্কুলগুলোতে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার সুরক্ষিত রাখতে তিনি ওই সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।
সামিরা বলেন, ‘ফিলিস্তিনের বিষয় নিয়ে আমি যখন সাক্ষ্য দিলাম, এর পর থেকে প্রতিটি শুনানির আগে আমাকে সাক্ষীর তালিকা দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। আমি জানি না যে এটা আকস্মিক কোনো ঘটনা, নাকি সংস্থার ভুল, যোগাযোগের সমস্যা নাকি তারা আমার সাক্ষ্যকে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।’
তবে সেই বৈঠকের পরই ক্যারি প্রেজিয়ান-বোলারই সর্বপ্রথম সামিরা মুনশির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ দুই নারীর মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
সামিরা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘ক্যারি সত্যিই অসাধারণ। এখন আমরা বেশ ভালো বন্ধু এবং অনেক কিছু নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করি।’
সামিরা আরও বলেন, ‘ক্যারি সম্পর্কে যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ এবং যা আমি রক্ষণশীল শিবিরে দেখিনি, তা হলো তিনি সত্যিই মুসলিমদের সম্মান করেন।’
সম্প্রতি প্রেজিয়ান-বোলার ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো যৌথ হামলারও বিরোধিতা করেছিলেন। সামিরা মুনশি বলেছেন, কমিশন থেকে তাঁর পদত্যাগের এটা আরেকটা কারণ।