Image description

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গর্বের বাহিনীকে দুর্বল করার জন্য পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল গভীর ষড়যন্ত্র। বিডিআর বিদ্রোহের মাধ্যমে সেই সময় দেশে খুনের রাজনীতি শুরু হয়েছিল। চব্বিশে এসে এটা শেষ হয়েছে এবং তার রেশ ওসমান হাদি পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। আমরা এই ষড়যন্ত্র উপলদ্ধি করি। আল্লাহ তায়ালা কোনো দিন সুযোগ দিলে তার সঠিক প্রতিকার করব ইনশাআল্লাহ।

শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সম্মানে’ আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিস’ নামের সংগঠন এই ইফতারের আয়োজন করে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পিলখানায় মেধাবী সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার মাধ্যমে এ দেশের প্রতিরক্ষা ও সার্বভৌমত্বকে আঘাত করা হয়েছে। পিলখানার বীরেরা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন, আশা করি তারা হাসছেন। আর দুনিয়া তাদের জন্য কেঁদেছেন। সারা বাংলাদেশ কেঁদেছে। সারা দুনিয়ায় যে যেখানে ছিলেন, তারাও কেঁদেছে। সবার কলিজাকে স্পর্শ করেছে।

তিনি বলেন, এরপরেও অনেক হত্যাকাণ্ড হয়েছে। আমরাও আমাদের অনেক প্রিয় নেতাদের হারিয়েছি। বিচারিক এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছি। তাদের যেন আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেন। অনুরূপভাবে শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামাদের নির্দয়ভাবে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। সেই নিহত লোকগুলোর জীবন নিয়ে উপহাস করা হয়েছে। বলা হয়েছে, কেউ গুলিও করেনি, কেউ মারাও যায়নি, ওরা রং ছিটিয়ে অভিনয় করে পড়ে ছিল। এভাবে নিহত লোকদের নিয়ে উপহাস দুনিয়ার কেউ করেছে বলে জানা নেই। কিন্তু বাংলাদেশ তা প্রত্যক্ষ করেছে। আমরা তাদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।

জামায়াত আমির বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড ইতিহাসের এক নজিরবিহীন ঘটনা। এই ঘটনার আসল রহস্য লুকাতে সুপরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগীদেরই দোষীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। জাতি আজ প্রকৃত সত্য জানতে চায়। জামায়াত কখনো দেশের দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সত্যিকার বিচার নিশ্চিত করা হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা আরো বলেন, জাতি এখন প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। জাতি চায় দেশে আর প্রতিহিংসার রাজনীতি চলবে না। সবাই তাদের নাগরিক অধিকার নিয়ে চলতে চায়। দেশের সব মানুষের প্রতিও আমাদের একই কমিটমেন্ট।

অনুষ্ঠানে পিলখানা ও জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানানো হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহীদ পরিবারের এই আত্মত্যাগ জাতি কোনো দিন ভুলবে না। তারা আমাদেরকে ঋণী করে গিয়েছেন। তারা দেশের জন্য কমিটেড ছিলেন। জাতির দায়িত্ব নিয়ে তারা দায়িত্ব পালন করেছেন।

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরী পর্যায়ের নেতাসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।