মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পারের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমি জাহানাবাদী।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) ঢাকায় এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
সরকারকে অনুরোধ বিষয় উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি দেখেছি যে আপনার দেশে জ্বালানি সংকট রয়েছে। জ্বালানি সমস্যার জন্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জ্বালানিমন্ত্রী বাংলাদেশের তেল ট্যাঙ্কারগুলোকে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার জন্য ইরান সরকারকে অনুরোধ করতে বলেছেন।’
ইরানি দূত বলেন, ‘আমি এটি করেছি। আমি ইরানের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তারা প্রস্তুত। যদি আপনার কাছে এমন কোনো জাহাজ থাকে, যা হরমুজ প্রণালিতে আপনার জন্য জ্বালানি পরিবহন করতে চায়, তাহলে আমরা আপনার জাহাজগুলোকে নিরাপদে যেতে দেব, যাতে বাংলাদেশের মানুষ এবং এখানকার প্রিয় মানুষদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ পাড়ি দেওয়ার সুযোগ না থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
যদিও কিছু দেশের তেলের জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিলেও সংঘাতের কারণে কৌশলগত এই জলপথে চলাচল এখনো অনেকাংশে সীমিত রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তেহরানে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তখত-রাভানচি বলেন, ‘কিছু দেশ ইতোমধ্যে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তাদের জাহাজ চলাচলের বিষয়ে আলোচনা করেছে এবং আমরা তাদের সহযোগিতা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেসব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে অংশ নিয়েছে, তারা যেন হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের সুবিধা না পায়, এটাই আমাদের অবস্থান।’
হরমুজ প্রণালি হয়ে চীনের তেলবাহী ট্যাংকার পার হওয়ার খবর ইতোমধ্যে এসেছে। ভারতের তেলবাহী ট্যাংকারও ওই প্রণালি পার হওয়ার সুযোগ পাওয়ার কথাও উঠে এসেছে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে।
এর আগে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক কুদস কমিটি বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি।
ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে পারস্য উপসাগরীয় দেশটি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত ১৬টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের ২০ শতাংশই পরিবাহিত হয় এই জলপথ দিয়ে।
হরমুজ প্রণালি হয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। তারা সতর্ক করে বলেছে, বিশ্ব বাজারে তেলের ব্যারেল প্রতি দর বেড়ে ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।