রাজধানীর কবি নজরুল সরকারি কলেজের একমাত্র ছাত্রাবাস শহীদ শামসুল আলম ছাত্রাবাসের একটি কক্ষ থেকে কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক কর্মীকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কলেজ শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাহিদ হাসান ও সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিবের বিরুদ্ধে। এসময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ছাত্রাবাসের আরেক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকও শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকার হন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী মোঃ জুবায়েরকে ছাত্রাবাসের কক্ষ থেকে বের করে দেন কলেজ শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মোঃ নাহিদ হাসান ।
এসময় জুবায়েরের সঙ্গে নাহিদ হাসানের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে জুবায়ের ছাত্রাবাসের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল্লাহকে ডেকে আনেন। তিনি এসে নাহিদ হাসানের সঙ্গে কথা বলে বুঝানোর চেষ্টা করলে একপর্যায়ে নাহিদ হাসান তার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং মারধর করেন।
এছাড়াও ঘটনার সময় কবি নজরুল সরকারি কলেজ সাংবাদিক সমিতির সদস্য ও সময় জার্নালের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মোঃ শাকিল ঘটনাস্থলে সাংবাদিক পরিচয়ে ভিডিও করতে গেলে নাহিদ হাসান তাকে ধাক্কা দিয়ে তার ফোন কেড়ে নেয় এবং তার গায়ে হাত তোলে।
ভুক্তভোগী ছাত্রশিবিরকর্মী জুবায়ের দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি খাবার খেতে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি আমার বেড বাইরে বের করে রাখা হয়েছে। তখন আমি সাইফুল্লাহ ভাইকে ডেকে আনি। তিনি নাহিদ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলে তাকে বুঝানোর চেষ্টা করলে তিনি তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন, তাকে ধাক্কা দেন এবং তার গায়ে হাত তোলেন।
কবি নজরুল সরকারি কলেজ সাংবাদিক সমিতির সদস্য ও সময় জার্নালের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মোঃ শাকিল বলেন, আরবি সাহিত্য বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল্লাহর সাথে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদকের হাতাহাতি হয়। সেখানে আমি সাংবাদিক সমিতির সদস্য পরিচয় দিয়ে ভিডিও করতে গেলে ছাত্র অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আমার ফোন কেড়ে নিয়ে দুই বার বন্ধ করে দেয় এবং আমার গায়ে হাত তোলে ।
ছাত্রাবাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খান পনির বলেন, গতকাল মাঝরাতে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাহিদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক সাদেক বাপ্পি ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদ জোরপূর্বক পা দিয়ে দরজা ভেঙে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কক্ষে প্রবেশ করেন এবং এমন আচরণ করেন যেন কক্ষটি ছাত্র অধিকার পরিষদের।
কলেজের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল্লাহ বলেন, জুবায়ের নামে এক ছেলেকে ছাত্র অধিকার পরিষদের নাহিদ ভাই রুম থেকে বের করে দিয়েছে। ছেলেটা বাইরে এসে কান্নাকাটি করছিল। আমি সিনিয়র হিসেবে তার সাথে কথা বলি । ছেলেটি জানায়, নাহিদ ভাই তাকে রুম থেকে বের করে দিয়েছে। নাহিদ ভাই আমার পরিচিত হওয়ায় এ বিষয়ে জানতে চেয়েছি এবং ভাইকে রিকোয়েস্ট করতে গিয়েছিলাম ছেলেটাকে রাখার জন্য ।
তিনি বলেন, কিন্তু নাহিদ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বললে তিনি এলোমেলো ভাবে কথা বলা শুরু করে। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির মধ্যে ভাই এই ছেলেকে রুমে রাখবে না। ভাই বলেন, 'আমি কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছি এই রুম ছাত্র অধিকার পরিষদের রুম এখানে আর কেউ থাকতে পারবে না।'
তিনি আরও বলেন, ছেলেটি আর্থিকভাবে অনেক অভাবে অনটনে আছে এবং মেস ছেড়ে দিয়েছে, থাকার জায়গা নেই। তাই ভাইকে রিকোয়েস্ট করলে ভাই এলোমেলো কথা বলা শুরু করে। একপর্যায়ে তিনি আমার ডিপার্টমেন্টের ইউসুফ স্যারকে গালিগালাজ করে। তখন আমি প্রতিবাদ জানালে মব সৃষ্টি করে নাহিদ এবং সাকিব আমার গায়ে হাত তুলেছে এবং সাংবাদিক সমিতির এক ভাই ছিল শাকিল তার গায়েও হাত তুলেন।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক কর্মীকে ছাত্রাবাস থেকে বের করে দেওয়া এবং ছাত্রাবাসের এক শিক্ষার্থী ও দায়িত্ব পালনরত এক সাংবাদিককে শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগের বিষয়ে কলেজ শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাহিদ হাসান বলেন, গতকাল রাতেই ভরা মজলিসে বিষয়টির সমাধান হয়েছে।